Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতার কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ দিকে বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার সন্ধ্যায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। 

সমাবেশে ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্নি, ডাকসু সদস্য হেমা চাকমা, কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক শিমু আক্তার, জগন্নাথ হল সংসদের ভিপি পল্লব চন্দ্র বর্মনসহ বিভিন্ন হলের ছাত্র প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। 

বিক্ষোভ চলাকালে তারা ‘রাজাকারের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘শামীমের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’ এবং ‘এ দেশ নারী মাটি, রাজাকারের হবে না’-এমন নানা স্লোগান দেন।

রোববার বরগুনা-২ আসনের পাথরঘাটা এলাকায় এক নির্বাচনী জনসভায় বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও এমপি প্রার্থী শামীম আহসান ডাকসুকে একসময় ‘মাদকের আড্ডাখানা’ ও ‘বেশ্যাখানা’ বলে মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন, ইসলামী ছাত্রশিবির সেই পরিবেশ পরিবর্তন করেছে। তার এই বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের চরম অবমাননা করেছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। 

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, জামায়াত নেতার এই বক্তব্য শুধু ডাকসু বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করেনি, বরং দেশের নারী সমাজের মর্যাদা ও সংগ্রামকে অস্বীকার করার শামিল। 

তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার; সেই বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘বেশ্যাখানা’ বলার মধ্য দিয়ে নারীদের আত্মত্যাগ ও অবদানকে অবমাননা করা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নারীরা অনেক কষ্ট করে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন, তাদের নিয়ে এমন ভাষা ব্যবহার পুরো বাংলাদেশকে অপমান করার সমান।

সমাবেশে ডাকসুর বর্তমান ভিপি ও জিএসের নীরবতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা আরও বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও মর্যাদার প্রশ্নে ডাকসু নেতৃত্ব বারবার নীরব ভূমিকা পালন করছে। জামায়াত নেতার এই মন্তব্যের পরও ডাকসুর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা বিবৃতি না আসায় তারা তীব্র সমালোচনা করেন।

বিক্ষোভ থেকে শিক্ষার্থীরা শামীম আহসানকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দেন। একই সঙ্গে তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে তার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান। 

এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাকসু ভবন সম্পর্কে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসানের একটি বক্তব্যের প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও অর্বাচীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

এতে বলা হয়, তার এই বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা, সুনাম, ঐতিহ্য ও সম্মানকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে তার এই বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছে। এধরনের অর্বাচীন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে।