Image description

সকালের নাশতা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। সারা রাত উপোস থাকার পর শরীর চায় এমন কিছু যা দ্রুত শক্তি জোগাবে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখবে। কিন্তু প্রতিদিনের সেই একঘেয়ে রুটি-তরকারি বা সিরিয়াল খেতে কারই বা ভালো লাগে? স্বাদ এবং স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে সকালের নাশতায় যোগ করতে পারেন এক বাটি ‘পুডিং’।

সাধারণত মিষ্টি বা ডেজার্ট হিসেবে পুডিং পরিচিত হলেও, এর পুষ্টিগুণ একে একটি আদর্শ সকালের খাবারে পরিণত করেছে। চলুন জেনে নিই সকালের নাশতায় পুডিং খাওয়ার কিছু চমৎকার উপকারিতা:

প্রোটিনের দারুণ উৎস:
পুডিংয়ের প্রধান দুটি উপাদান হলো দুধ এবং ডিম। এই দুটিই উন্নত মানের প্রোটিনের আধার। প্রোটিন শরীরের পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়, যা অসময়ে আজেবাজে খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়।

হাড়ের সুরক্ষা ও ক্যালসিয়াম:
দুধ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর প্রধান উৎস। সকালের খাবারে পুডিং থাকলে তা হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান শিশু এবং বয়স্কদের হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী।

তাৎক্ষণিক শক্তির জোগান:
পুডিংয়ে থাকা কার্বোহাইড্রেট এবং গ্লুকোজ শরীরে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। ফলে কর্মব্যস্ত দিন শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় এনার্জি পাওয়া যায় অনায়াসেই।

হজমে সহায়ক:
পুডিং একটি নরম ও আর্দ্র খাবার। এটি হজম করা তুলনামূলক সহজ। যাদের সকালে ভারী খাবার খেলে পেটে অস্বস্তি হয়, তাদের জন্য পুডিং একটি আরামদায়ক বিকল্প হতে পারে।

মেজাজ ফুরফুরে রাখে:
মিষ্টি জাতীয় খাবার মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ হরমোন নিঃসরণে সহায়তা করে, যা মন ভালো রাখতে কার্যকর। দিনটি হাসিখুশি মনে শুরু করতে চাইলে এক বাটি পুডিং হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী।

শিশুদের জন্য আদর্শ:
অনেক শিশুই সকালে ডিম বা দুধ আলাদাভাবে খেতে চায় না। তাদের পুডিং বানিয়ে দিলে দুধ ও ডিমের পুষ্টি একসাথে শরীরে পৌঁছায়। এতে বাদাম বা ফল মিশিয়ে দিলে পুষ্টির মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

পুডিংকে আরও স্বাস্থ্যকর করার কিছু টিপস:
সকালের পুডিংকে যদি আরও ডায়েট-ফ্রেন্ডলি করতে চান, তবে কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন:

  • সাদা চিনির বদলে মধু বা ম্যাপেল সিরাপ ব্যবহার করতে পারেন।

  • চিনি পুরোপুরি বাদ দিতে চাইলে মিষ্টি ফল (যেমন- কলা বা খেজুর) পিউরি করে মেশাতে পারেন।

  • পুষ্টিগুণ বাড়াতে ওপর থেকে চিয়া সিড, আমন্ড কুচি বা তাজা বেরি জাতীয় ফল ছড়িয়ে দিন।

  • লো-ফ্যাট মিল্ক বা ওটস মিল্ক ব্যবহার করেও পুডিং তৈরি করা সম্ভব।

সকালের খাবার মানেই একঘেয়েমি নয়। স্বাদ বদলাতে এবং শরীরে পুষ্টির জোগান দিতে কাল সকালের মেন্যুতে রাখতেই পারেন পুষ্টিগুণে ভরপুর পুডিং। তবে মনে রাখবেন, অতিরিক্ত চিনি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তাই ঘরে তৈরি পুষ্টিসম্মত পুডিং হওয়াই শ্রেয়।