৭ মার্চ নিয়ে পোস্ট করায় সেহরির টেবিল থেকে তুলে নিয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর
৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় সেহরির টেবিল থেকে মারতে মারতে শাহবাগ থানায় ফেলে রাখা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে।
সোমবার (৯ মার্চ) সাংবাদিক নওশাদ জামিল তার ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে এ কথা জানান। এছাড়া ছাত্রশক্তির কয়েকেজন নেতার পোস্টে এধরণের পোস্ট করা হয়।
পোস্টে নওশাদ জামিল লেখেন, রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সেহেরি খেতে হলের ক্যান্টিনে বসেছিল এক তরুণ। সেখান থেকেই তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর কিল-ঘুষি ও মারধর করে তাকে গুরুতরভাবে আহত করা হয়। শেষপর্যন্ত মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে শাহবাগ থানায় ফেলে রাখা হয়। তার অপরাধ কী?
পোস্টে তিনি জানান, ছেলেটি ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিল। এটা নাকি তার ‘অপরাধ’। ঐতিহাসিক দিন বা জাতীয় নেতাকে নিয়ে মতপ্রকাশ করা কি কোনো অপরাধ, যার শাস্তি হতে পারে নির্মম প্রহার?
সাংবাদিক নওশাদ জামিল আরও জানান, মারাত্মকভাবে আহত ছেলেটি খুবই সাধারণ পরিবারের ছেলে। বাবা বেঁচে নেই। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্র পড়িয়ে সংসারকে সহায়তা করে।
জানা যায়, আজ রাতে ছেলেটা সেহেরি খেতে বুয়েটের হলে গিয়েছিল। ঠিক আগের দিন ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার জেরে কিছু ছাত্রনামধারী সন্ত্রাসী তাকে মারধর করে। তারপর আহত অবস্থায় শাহবাগ থানায় রেখে যায়।
তিনি জানান, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, মতের মিল-অমিলও হতে পারে, এটা স্বাভাবিক বিষয়। তবে মতপ্রকাশের কারণে কাউকে মারধর করা কোনো সভ্যসমাজেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়ে তিনি লেখেন, ভবিষ্যতে আর কাউকে যেন মতপ্রকাশের জন্য নির্যাতনের শিকার হতে না হয়।




Comments