Image description

আমেরিকান কলেজ ফুটবলে খেলোয়াড়দের অবৈধভাবে প্রলুব্ধ করা বা ‘ট্যাম্পারিং’-এর গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ক্লেমসন ইউনিভার্সিটির প্রধান কোচ ডাবো সুইনি। তার অভিযোগের তীর মিসিসিপি (ওলে মিস) ইউনিভার্সিটির ডিফেন্সিভ কোঅর্ডিনেটর পিট গোল্ডিংয়ের দিকে। ট্রান্সফার পোর্টালে থাকা খেলোয়াড় লুক ফেরেয়ালিকে নিয়ে এই বিবাদ শুরু হয়েছে, যা এখন এনসিএএ পর্যন্ত গড়িয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক লাইনব্যাকার লুক ফেরেয়ালি গত ২ জানুয়ারি ট্রান্সফার পোর্টালে নাম লেখান এবং চার দিন পর ক্লেমসনে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি ক্লেমসনে ক্লাস শুরু করেন এবং দলের অনুশীলনেও অংশ নেন। কিন্তু নাটকীয়ভাবে ২২ জানুয়ারি তিনি আবারও পোর্টালে নাম লিখিয়ে ওলে মিস-এ যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডাবো সুইনি বলেন, “যদি কেউ আমার খেলোয়াড়দের ট্যাম্পারিং করে, তবে আমি তার বিরুদ্ধে নালিশ করবই। বিষয়টি খুব সহজ। আমি কাউকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে চাই না, কিন্তু নিয়মের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করলে তার জবাবদিহিতা ও শাস্তি থাকা উচিত।”

তিনি এই পরিস্থিতিকে পেশাদার লিগ এনএফএল-এর সাথে তুলনা করে বলেন, “এনএফএল-এ এমনটা হলে বিশাল অংকের জরিমানা হতো বা ড্রাফট পিক কেড়ে নেওয়া হতো। এটি নবীন কোচদের জন্য এক ভয়াবহ উদাহরণ। আমার কাছে এই পরিস্থিতিটি অনেকটা ‘হানিমুনে গিয়ে পরকীয়া’ করার মতো।”

সুইনি দাবি করেছেন যে, ফেরেয়ালি ক্লেমসনে ভর্তি হওয়ার পরও গোল্ডিং তার সাথে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। গোল্ডিং একটি টেক্সট মেসেজে ফেরেয়ালিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আমি জানি তুমি ক্লেমসনে সই করেছ, কিন্তু তোমার বাইআউট (চুক্তি ভাঙার টাকা) কত?”
সুইনি আরও একটি বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ফেরেয়ালির এজেন্ট প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, যদি ক্লেমসন ফেরেয়ালির সাথে চুক্তিতে আরও ১ মিলিয়ন ডলার যোগ করে, তবে তারা ওলে মিস-এর বিরুদ্ধে প্রমাণ দেবে। কিন্তু ক্লেমসন কর্তৃপক্ষ এই অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি হয়নি।

ক্লেমসন অ্যাথলেটিক ডিরেক্টর গ্রাহাম নেফ জানিয়েছেন, তারা এই বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন মূলত কলেজ ফুটবলের বর্তমান নিয়মনীতিতে পরিবর্তন আনার জন্য। তিনি বলেন, “এনসিএএ অবাক হয়েছে যে একটি বিশ্ববিদ্যালয় এত সরাসরি ও স্বচ্ছভাবে অভিযোগ নিয়ে এগিয়ে এসেছে। আমরা আইনি পথও খতিয়ে দেখছি।”

ডাবো সুইনি বর্তমানের ‘জানুয়ারি ট্রান্সফার পোর্টাল’ উইন্ডোকে ‘বোকামি’ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, এর ফলে খেলোয়াড় ও স্কুলগুলোর মধ্যে এক ধরণের ‘চাঁদাবাজি’ বা এক্সটরশনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সুইনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত এই ব্যবস্থার সংস্কার না হয়, তবে এর দীর্ঘমেয়াদী কুপ্রভাব পড়বে খেলোয়াড়দের ওপর। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে আমরা এমন অনেক ৩০ বছর বয়সী মানুষ পাব, যাদের হাতে না থাকবে কোনো ডিগ্রি, না থাকবে সঞ্চিত অর্থ, আর ফুটবলের সাথেও তাদের কোনো সংযোগ থাকবে না।”

এনসিএএ-র এনফোর্সমেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট জন ডানকান জানিয়েছেন, তারা এই অভিযোগ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করবেন এবং সংশ্লিষ্ট সবার পূর্ণ সহযোগিতা আশা করছেন। তবে ওলে মিস কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।