Image description

বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও তার নয় মাসের শিশুসন্তানের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) নিজ বাড়ি থেকে তাদের ঝুলন্ত ও নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতদের স্বামী জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে একাধিক মামলার আসামি হিসেবে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। স্ত্রীর মৃত্যু ও দাফনকাজের জন্য তার প্যারোলে মুক্তির গুঞ্জন শোনা গেলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায় জুয়েলের প্যারোলের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় তার স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনায় নিহত নারীর পিতা রুহুল আমিন হাওলাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করেছে।

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তির কোনো দাপ্তরিক আদেশ বা তথ্য নেই।”

এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন জানান, “নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির জন্য আমাদের কাছে কোনো আবেদন করা হয়নি। যেহেতু অভিযুক্ত ব্যক্তি যশোর কারাগারে রয়েছেন, তাই বিষয়টি যশোর জেলা প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত।”

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মানবকণ্ঠ/ডিআর