Image description

গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে ৮ দফা দাবিতে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় শিল্প পুলিশের ১০ সদস্যসহ অন্তত অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ‘যমুনা ডেনিমস লিমিটেড’ কারখানায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বকেয়া পাওনা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ ৮ দফা দাবিতে সকালে কারখানার সামনে জড়ো হন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলেও কর্তৃপক্ষ পুলিশ ডেকে তাদের ওপর টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিকদের ৮ দফা দাবিগুলো হলো-
১. ডিরেক্টর কাজল কান্তির বাধ্যতামূলক পদত্যাগ।
২. বাৎসরিক ছুটির বকেয়া টাকা ২৫ জানুয়ারির মধ্যে পরিশোধ এবং পরবর্তী বছর থেকে তা ডিসেম্বর মাসে প্রদান।
৩. টিফিন বিল ৫০ টাকা এবং রাত ১০টার পর ডিউটি করলে নাইট বিল ১৫০ টাকা করা।
৪. হেলপার থেকে অপারেটর সবার হাজিরা বোনাস ১,০০০ টাকা করা।
৫. প্রতি মাসের ৩-৪ তারিখের মধ্যে পে-স্লিপ এবং ৭ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ করা (৭ তারিখ শুক্রবার হলে ৬ তারিখে পরিশোধ)।
৬. জরুরি প্রয়োজনে ছুটি মঞ্জুর করা।
৭. ফ্লোরে কোনো স্টাফ বা শ্রমিকের সাথে দুর্ব্যবহার বা গালিগালাজ না করা এবং কোনো অভিযোগ দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া।
৮. আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কোনো শ্রমিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা চাকরি থেকে বরখাস্ত না করা।

এদিকে, সংঘর্ষের পর কারখানা কর্তৃপক্ষ বেলা ১১টার দিকে মূল ফটকে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ’র নোটিশ টাঙিয়ে দেয়। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পুলিশ জানায়, শ্রমিকরা হঠাৎ করে রাস্তা অবরোধ করে উশৃঙ্খল আচরণ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ (কোনাবাড়ী জোন) এর পরিদর্শক মো. মোর্শেদ জামান বলেন, "উশৃঙ্খল শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর