Image description

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সেই ভাষণের পাশাপাশি সোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে শহীদ জিয়াউর রহমানের 'একটি জাতির জন্ম' প্রবন্ধ। 

তিনি কি লিখেছিলেন সেই প্রবন্ধে, কেন এ নিয়ে আলোচনা, ৭ মার্চের সাথে এই প্রবন্ধ কেন আলোচনায় আসছে তা নিম্নে তুলে ধরা হলো। 

১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক বাংলা ও দৈনিক গণবাংলা পত্রিকায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের লেখা 'একটি জাতির জন্ম' শীর্ষক একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। 

যা ১৯৭৪ সালে 'বিচিত্রা' পত্রিকায় পুন:প্রকাশিত হয়।  স্বাধীনতা দিবস সংখ্যায় শহীদ জিয়াউর রহমানসহ মুক্তিবাহিনীর তিন ফোর্সের অধিনায়কের স্মৃতিকথা ছেপেছিল। অন্য দুজন হলেন খালেদ মোশাররফ ও কে এম সফিউল্লাহ। 

প্রবন্ধে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। 

তিনি লেখেন, ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিস্ফোরণোম্মুখ হয়ে উঠলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে থাকা বাঙালি কর্মকর্তারাও তার আঁচ পেতে থাকে। ভেতরে ভেতরে আলোচনা চলতে থাকে। 

৭ মার্চের ভাষণকে গ্রিণ সিগনাল উল্লেখ করে তিনি লিখেন, “৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষণা আমাদের কাছে গ্রিন সিগন্যাল বলে মনে হল। আমরা আমাদের পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত রূপ দিলাম।” 

প্রবন্ধে ৭ মার্চের পাশাপাশি বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। প্রবন্ধের শুরুতেই বলেন, “পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই ঐতিহাসিক ঢাকা নগরীতে মি. জিন্নাহ যেদিন ঘোষণা করলেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা, আমার মতে সেদিনই বাঙালি হৃদয়ে অঙ্কুরিত হয়েছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ।” 

পাকিস্তানিদের দৃষ্টিভঙ্গীদের অস্বচ্ছতা অল্পবয়সেই পীড়া দিত বলে উল্লেখ করেছেন জিয়াউর রহমান। সামরিক বাহিনীতে যাওয়ার পর এই অনুভূতি আরো গাঢ় হয়। 

তাঁর ভাষায়- “আমাদের ওরা দাবিয়ে রাখত, অবহেলা করত, অসম্মান করত, বলত- ‘আওয়ামী লীগের দালাল’। একাডেমির ক্লাসগুলোতেও সবসময় বোঝানো হত- আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছেন ওদের রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু।” 

এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সৈন্যদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে লড়ার আগে থেকে ভারতীয় সৈন্যদের সম্পর্কে উচ্চ ধারণার কথাও লিখেছেন জিয়া। 

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তার লেখায় বলা হয়েছে- “যুদ্ধবিরতির সময় বিভিন্ন সুযোগে আমি দেখা করেছিলাম বেশ কিছু সংখ্যক ভারতীয় অফিসার ও সৈনিকের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে কোলাকুলি করেছি, হাত মিলিয়েছি। তখন দেখেছিলাম, তারা অত্যন্ত উঁচু মানের সৈনিক। 

“তাদের সঙ্গে হৃদ্যতা গড়ে উঠেছিল, আমরা বন্ধুতে পরিণত হয়েছিলাম। এই প্রীতিই দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে পাশাপাশি ভাইয়ের মতো দাঁড়িয়ে সংগ্রাম করতে উদ্বুদ্ধ করেছে আমাদের।” 

শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রবন্ধ অনুসারে, ৭ মার্চের ভাষণ ছিল এক জাতির আত্মজাগরণের মুহূর্ত। এটি আমাদেরকে স্মরণ করায় যে স্বাধীনতা সহজে আসে না, বরং ঐক্য, ত্যাগ এবং সংকল্পের মাধ্যমে অর্জন করা যায়। ৭ মার্চ শুধু ইতিহাস নয়, এটি জাতির জন্য একটি চিরন্তন প্রেরণা।