ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় বাহিনী করা হয়েছিল: রাষ্ট্রপতি
বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা জানান। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বলেন, “বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নজিরবিহীনভাবে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করেছে। বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার, আধুনিক এবং দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।”
পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের তথ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, ২০২৫ সালে ৭৯১ জন সাব-ইন্সপেক্টর ও ৮,০১১ জন কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই বছরে ৩ হাজার ৫৬০ জন সদস্যকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়াতে সরকার আরও ৪ হাজার সাব-ইন্সপেক্টর এবং ১০ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এছাড়া ১৮০ জন সার্জেন্ট নিয়োগের বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
কারা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পাঁচটি নতুন কারাগার চালু করা হয়েছে। প্রবর্তিত হয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বন্দি ব্যবস্থাপনা ও ‘১৬১৯১’ কল সেন্টার সেবা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “প্রতিটি নাগরিক যাতে ঘরে-বাইরে নিরাপত্তা বোধ করেন, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। অনলাইন জুয়া, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরলস কাজ করছে।” জুলাই-আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments