কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ-এর দানবাক্সে এবারও মিলেছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। ছয় মাস পর শনিবার সকালে মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হলে রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া যায়।
শনিবার সকাল ৭টায় দানবাক্স খোলার পর বিপুল পরিমাণ টাকা সংরক্ষণের জন্য ৪৩টি বস্তা প্রয়োজন হয়। পরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় টানা প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে টাকা গণনা শেষে রাত ৯টার দিকে গণনার কাজ শেষ হয়।
পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, এবারই মসজিদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া গেছে। নগদ টাকার পাশাপাশি দানবাক্সে সোনা-রুপার অলংকার এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খুলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়। আর তারও আগে ৩০ আগস্ট দানবাক্সে মিলেছিল ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা।
জেলা প্রশাসক জানান, বর্তমানে মসজিদের ব্যাংক হিসাবে ১১৪ কোটির বেশি টাকা জমা রয়েছে। এবার পাওয়া অর্থও ওই হিসাবে জমা করা হবে। তিনি আরও জানান, মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামী কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ৫৪ শতক জমি কেনা হয়েছে।
টাকা গণনার কাজে অংশ নেন প্রায় ৫০০ জন। তাদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানার প্রায় সাড়ে ৩৫০ শিক্ষার্থী, মসজিদের কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন। পুরো কার্যক্রমে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান বলেন, দানবাক্সের টাকা গণনার পুরো প্রক্রিয়া ছিল নিরাপদ ও স্বচ্ছ। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই গণনা শেষ হয়েছে।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, পাগলা মসজিদে দান করলে মনোবাসনা পূরণ হয়। এ কারণে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে দান করেন। নগদ অর্থের পাশাপাশি অনেকে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন সামগ্রীও দান করে থাকেন।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তহবিলের মুনাফার অর্থ দিয়ে ক্যান্সার, কিডনি ও অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া একটি মাদ্রাসার ব্যয়ও এই তহবিল থেকে পরিচালিত হয়। ভবিষ্যতে সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।




Comments