Image description

দিনাজপুরের বিরল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মো. মহি উদ্দীন দীর্ঘ ৩১ বছরের গৌরবময় কর্মজীবনের ইতি টেনে অবসরে গেছেন। সোমবার (৩০ জুন) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক আবেগঘন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হয়।

জানা যায়, ১৯৯৫ সালে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে বিরল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন মো. মহি উদ্দীন। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে নিজের মেধা, শ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে তিনি বিদ্যালয়টিকে একটি সুপরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন।

বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মহি উদ্দীন স্যার শুধু একজন প্রধান শিক্ষক নন, তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, শিক্ষকদের পথপ্রদর্শক এবং এ অঞ্চলে শিক্ষার প্রসারে একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ।

বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী ও সহকর্মী চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। প্রিয় শিক্ষককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন সবাই।

বিদায়ী বক্তব্যে মো. মহি উদ্দীন বলেন, “আমি শুধু একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চাইনি, আমি চেয়েছিলাম একদল সৎ ও আদর্শ মানুষ তৈরি করতে। আজ কর্মক্ষেত্র থেকে বিদায় নিচ্ছি ঠিকই, কিন্তু আমার প্রাণ পড়ে থাকবে এই বিদ্যালয়ের প্রতিটি ধূলিকণায়, প্রতিটি শ্রেণীকক্ষে। তোমরা যেখানেই যাও, সৎ থেকো এবং দেশের কল্যাণে কাজ করো।”

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ে তাঁর হাত ধরে গড়ে উঠেছেন হাজারো শিক্ষার্থী, যারা বর্তমানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিরলবাসীর কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

কর্মজীবন থেকে অবসর নিলেও বিরল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাসে এবং অসংখ্য শিক্ষার্থীর হৃদয়ে মহি উদ্দীন স্যারের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।