যান্ত্রিক নগরজীবনের একঘেয়েমি আর ব্যস্ততা ভুলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের খুশিতে মেতে উঠেছে রাজধানীর শিশুরা। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল থেকেই রাজধানীর শ্যামলীর ‘শিশুমেলা’ প্রাঙ্গণে ভিড় জমায় হাজারো পরিবার। নতুন পোশাকে শিশুদের উচ্ছ্বাস, চঞ্চলতা আর হাসিখুশিতে পুরো এলাকা এক প্রাণবন্ত উৎসবে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেলার প্রবেশপথ থেকেই শুরু হয়েছে রঙিন সাজসজ্জা। ভেতরে নাগরদোলা, মিনি ট্রেন, ঘোড়ার গাড়ি, বাম্পার কার আর বাউন্সি ক্যাসলে শিশুদের উপচেপড়া ভিড়। প্রতিটি রাইডের সামনে দীর্ঘ সারি থাকলেও অপেক্ষার ক্লান্তি ছাপিয়ে শিশুদের চোখেমুখে ছিল কেবলই আনন্দের ঝিলিক। এক রাইড থেকে নেমেই অন্য রাইডে ওঠার নেশায় মেতে থাকতে দেখা গেছে তাদের।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়েম তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলে, “আমি আজ নাগরদোলা আর বাম্পার কারে উঠেছি। খুব মজা লাগছে। আমি বিকেল পর্যন্ত এখানেই থাকব।” সায়েমের মা রোকসানা বেগম বলেন, “শিশুরা সারা বছর পড়াশোনা আর চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি থাকে। ঈদের এই সময়টাতে ওদের একটু আনন্দ দিতেই এখানে আসা। ওদের হাসিই আমাদের বড় পাওয়া।”
মেলায় ছোট্ট মেয়ে তানহার হাত ধরে ট্রেনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঢাকায় শিশুদের জন্য খোলা ও নিরাপদ বিনোদন কেন্দ্র খুব সীমিত। তাই এমন আয়োজনগুলো আমাদের জন্য অনেক মূল্যবান। এখানে এসে অন্তত কিছুটা সময় নির্ভারভাবে কাটানো যায়।”

মেলার ভেতরে রাইডের পাশাপাশি খাবারের দোকানগুলোতেও ছিল উপচেপড়া ভিড়। ফুচকা, চটপটি, আইসক্রিম আর কটন ক্যান্ডির স্বাদে মজেছে শিশুরা। অনেকের হাতে দেখা গেছে রঙিন বেলুন আর পছন্দের খেলনা।
মেলার দায়িত্ব পালনরত এক কর্মী জানান, ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীর চাপ অন্যান্য দিনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রবেশপথে কড়া তদারকি এবং শিশুদের হারিয়ে যাওয়া রোধে সার্বক্ষণিক মাইকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নাগরদোলার চূড়ায় উঠে শহর দেখা কিংবা বাউন্সি ক্যাসলে লাফিয়ে বেড়ানো—সব মিলিয়ে শ্যামলীর শিশুমেলা আজ কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, বরং নগরবাসীর জন্য হয়ে উঠেছে এক মিলনমেলা। শিশুদের হাসিমুখ আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো এই মুহূর্তগুলোই যেন ঈদের সার্থকতা হয়ে ধরা দিয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments