প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘অপ্রিয় সত্য’ জানিয়ে এবং তোষামোদির পরিণাম নিয়ে সতর্ক করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি এই সতর্কতামূলক বার্তাটি তুলে ধরেন।
পোস্টের শুরুতে শিশির মনির লিখেন, “আজ আমি আপনাকে কয়েকটি অপ্রিয় সত্য কথা বলব। আপনি এখন ক্ষমতায়, তাই আপনাকে অনেকেই এসব কথা বলতে চাইবে না। অতীতে অতিরিক্ত তোষামোদির কারণে অনেকেই হেয়-প্রতিপন্ন হয়েছেন। ডিগ্রির পর ডিগ্রি, উপাধির পর উপাধি—কোনো কিছুই শেষ পর্যন্ত তাদের রক্ষা করতে পারেনি।”
আইনজীবী শিশির মনির তার পোস্টে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার উদাহরণ টেনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন:
১. জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি।
২. টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী তালিকায় স্থান পাওয়ায় সংসদে অভিনন্দন প্রস্তাব আনা।
৩. সরকারি কোনো পদে না থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমানকে প্রোটোকল দেওয়া।
৪. সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে মুঘল সম্রাট বাবরের সাথে তুলনা করা।
৫. নিজের হাতে মেয়ের মাধ্যমে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান।
৬. ক্রিকেট বোর্ডকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সন্তানদের মিলনমেলায় পরিণত করা।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রশংসা করে শিশির মনির বলেন, সাধারণ পোশাক পরিধান করা, কম প্রোটোকল ব্যবহার, হেঁটে চলা এবং সময়মতো অফিসে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো প্রশংসনীয়। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, গণ-অভ্যুত্থানের পর সাধারণ মানুষ আর তোষামোদি দেখতে চায় না। মানুষ চায় কাজ এবং জটিল সমস্যার টেকসই সমাধান।
নতুন প্রজন্ম পরিবার কেন্দ্রিক একনায়কতন্ত্র পছন্দ করে না উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, “নতুন প্রজন্মের কাছে যোগ্যতাই মূল বিবেচ্য বিষয়। আপনার বাবা-মা দুইজনই নিজ নিজ যোগ্যতায় মহিয়ান। কৃত্রিম নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা না করাই ভালো, এতে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে।”
পোস্টে শিশির মনির অভিযোগ করেন যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুত পদ্ধতি থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। এমনকি সরকারের নিজস্ব প্রস্তাবিত গণভোটের বিষয়টিও এখন অমান্য করা হচ্ছে, যা প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সবশেষে তিনি বলেন, “আমরা সব সময় ভালো কাজের পক্ষে এবং জনবিরোধী কাজের বিপক্ষে। একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে আপনার সমালোচনা করার অধিকার সকলেরই আছে।”
ফেসবুক পোস্টটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments