সপ্তাহ খানেক আগে বাড়ি এসে কনে দেখে বিয়ে পাকাপাকি করেন। নির্ধারিত দিন শুক্রবার বিকেলে বিয়ের কাবিন নামা হওয়ার কথা, কনের ও বরের বাড়িতে চলছিল আয়োজন। এর মধ্যেই খবর আসে বর মো. আলী আব্বাস রিমন (২৮) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। নিমেষেই মাটি হয়ে গেল সব আনন্দ।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের পিএবি সড়কের ফাজিলখাঁরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবক আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরী মাজারগেট এলাকার মোহাম্মদ মুছার ছেলে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। আজ (শুক্রবার) তাঁর বিবাহোত্তর কাবিন সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রিমন তাঁর শ্বশুরবাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারিতে যান। সেখানে রাত্রিযাপন শেষে শুক্রবার ভোরে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি আনোয়ারার ফিরছিলো। ফাজিলখাঁরহাট বাজার এলাকায় পৌঁছালে তাঁর মোটরসাইকেলকে দ্রুতগতির কক্সবাজারগ্রামী একটি বাসের ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকে পড়ে যায় সে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের বন্ধু মো. ফরহাদ বিন তাহের বলেন, ‘আজ রিমনের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত দিন শুক্রবার বিকেলে বিয়ের কাবিন নামা হওয়ার কথা, কনের ও বরের বাড়িতে চলছিল আয়োজন। কিন্তু সেই আনন্দ শোক হয়ে গেল মুহূর্তেই। আমরা বিশ্বাসই করতে পারছি না, সে আর নেই।’
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে গেছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে'।
উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিল মাসে বাঁশখালী উপজেলার গুনাগরী এলাকায় একই মোটরসাইকেলটি বাসের ধাক্কায় দুর্ঘটনায় নিহত হন রিমনের বড়ভাই আলী আকবরের সুমনের স্ত্রী।




Comments