Image description

হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে সেনা হেফাজতে মারা যাওয়া ডাবলুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১১টায় জীবননগর পৌর ঈদগাহ ময়দানে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ডাবলুর ছোট ভাই লন্ডন থেকে বাড়ি ফিরলে আসামীকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

ডাবলুর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারি পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মো. আনোয়ারুল কবীর, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএর সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান, জেলা বিএনাপির সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিআইপি সাহিদুজ্জামান টরিক, চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর মারুফ সারোয়ার বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার অহিদুল আলমসহ বিএনপি, অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী, বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি ও শুভানুধ্যায়ী।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা এই বাংলাদেশে এমন মৃত্যু প্রত্যাশা করি না। আমরা এর সঠিক বিচার চাই। আর যেন কাউকে এভাবে মরতে না হয়। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে খুবই মর্মাহত। পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব। পুলিশের পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিচারে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। 

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. তারিক-উজ-জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই কারণ আপনারা আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। যে ঘটনা ঘটেছে ভাষাই প্রকাশ করা যাবে না। সববেদনা দেওয়ার মতো ভাষা আমাদের নাই। যার হারাই সেই একমাত্র বোঝে আমরা কী হারালাম। সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য যা যা করার দরকার জেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে সেটি করা হবে। সুষ্ঠু বিচার হবে। তদন্তে জারা জড়িত হবে কেউ চাড় পাবেন না। 

পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসির সামনে থেকে ডাবলুকে আটক করে বিএনপির কার্যলয়ের এক কক্ষে নেওয়া হয়। পরে রাত ১২টার দিকে তাঁকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মকবুল হোসেনের তথ্যমতে, ১২ জানুয়ারি রাত ১২টা ১৬ মিনিটে ডাবলুকে জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত অবস্থায় আনা হয়। 

চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জামাল আল-নাসের গনমাধ্যমকে বলেন, ‘জীবননগরে বিএনপি নেতাকে তুলে নেওয়ার সময়ে জেলা পুলিশের কোনো সদস্য ছিলেন না। তবে যখন ওই নেতাকে জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, তখন পুলিশ খবর পায়। পরে সেখানে যান পুলিশ সদস্যরা।’

ডাবলুর মৃত্যর পর রাত থেকেই জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএর সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন।

পরের দিন বেলা ১১টার দিকে ফের ঘটনাস্থলে আসেন জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও সাধারণ সম্পাদক, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান ডাবলু। পরে তারা নেতা-কর্মীদের শান্ত করলে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে বিচারের আশ্বাসে বেলা দেড়টার দিকে তারা শামসুজ্জামান ডাবলু লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে নিয়ে রওনা হন। ময়নাতদন্তের পর সন্ধ্যা তার লাশ বাড়ি পৌঁছায়। আজ বুধবার বেলা ১১টায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

ডাবলুর মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেটি এখনো মামলা হিসেবে এজহার হয়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে ডাবলুর মৃত্যুর ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটির প্রধান হিসেবে রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. তারিক-উজ-জামান।