কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসছে হাজার হাজার মৃত জেলিফিশ, সংকটে জেলেরা
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে অস্বাভাবিক হারে ভেসে আসছে হাজার হাজার মৃত জেলিফিশ। গত কয়েকদিন ধরে সৈকতের লেম্বুরবন, মাঝিবাড়ি, গঙ্গামতি ও ঝাউবাগানসহ বিভিন্ন পয়েন্টে শত শত স্বচ্ছ ও মৃত জেলিফিশ আটকে থাকতে দেখা যাচ্ছে। সৈকতের এই দৃশ্য পর্যটকদের জন্য বিস্ময়কর হলেও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের জন্য এটি এক ভয়াবহ আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, সাগরে মাছ ধরার জালে মাছের চেয়ে হাজার হাজার জেলিফিশ বেশি আটকে পড়ছে। এতে জালের ওজন বেড়ে গিয়ে ছিঁড়ে যাচ্ছে এবং মাছ ধরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক জেলে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন।
হোসেন পাড়ার জেলে মো. মাহাতাব আকন বলেন, "প্রতিদিন সাগরে গেলে জালে শুধু জেলিফিশ উঠছে। জাল পরিষ্কার করতেই সারাদিন চলে যায়, মাছ ধরা যাচ্ছে না। পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় আছি।"
ঝাউবন এলাকার জেলে মো. শামিম হোসেন জানান, সাধারণত মার্চ-এপ্রিলে জেলিফিশ দেখা যায়, কিন্তু এবার দুই সপ্তাহ আগেই সাগর ভরে গেছে। এমন অবস্থা আগে কখনো দেখেননি তিনি।
সামুদ্রিক গবেষকদের মতে, জেলিফিশ সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে বর্তমানে সাগরের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অক্সিজেনের ঘাটতি এবং দূষণের কারণে জেলিফিশের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি সামুদ্রিক কচ্ছপসহ জেলিফিশভোজী প্রাণীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এদের বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে থাকছে না।
সমুদ্র অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইকোফিশ’-এর সহযোগী গবেষক মো. বখতিয়ার হোসেন জানান, তারা মৃত জেলিফিশের নমুনা সংগ্রহ করেছেন এবং অস্বাভাবিক এই উপস্থিতির কারণ নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, "প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলেরা এমনিতেই সংকটে আছেন। জেলিফিশের এই প্রকোপ তাদের জীবন-জীবিকাকে আরও হুমকির মুখে ফেলেছে। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে গবেষণা ও ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের সহায়তার দাবি জানাচ্ছি।"
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, "প্রতিবছরই নির্দিষ্ট সময়ে জেলিফিশ তীরে আসে। এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই এই সমস্যা প্রাকৃতিকভাবে কমে যায়। আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments