Image description

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা শাখার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সভাপতি ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী তুষার–এর বিরুদ্ধে মোবাইল ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে মামলাটি দায়ের করেন বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম। মামলা নম্বর—১৩। মামলাটি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬–এর ৬৯ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮৯/৫০৪/৫০৬ ধারায় রুজু করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল ও আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপমান ও ক্ষতিসাধনের হুমকি প্রদান এবং থানা এলাকায় শান্তিভঙ্গ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর আগে একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় নিজ বাসা থেকে ফেরদৌস চৌধুরী তুষারকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে নেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযানে ডিবি পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহুবল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অডিওর সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত হিসেবে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে আটক করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রাখী রানী দাস বলেন, “আজ দুপুরে শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এ ব্যাপারে বাহুবল মডেল থানার (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তকে সোমবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হবে।