Image description

ময়মনসিংহের ভালুকায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো; মো. হোসাইন (২১), মো. ফারুক আহাম্মেদ (১৭), মো. আরিফ (১৭) এবং মো. মেহেদী হাসান (২০)। তারা সবাই ভালুকা উপজেলার পাঁচগাঁও এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়। ছোটবেলাতেই বাবা-মাকে হারানো কিশোরীটি গত ১০ বছর সৎ মায়ের কাছে বড় হয়েছে। সৎ মায়ের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই মাস আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে ময়মনসিংহ শহরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তারের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করে। প্রায় ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘জিসান ইসলাম’ নামের একটি আইডির পরিচালনাকারীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত ১৪ মার্চ রাতে ওই ফেসবুক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে কিশোরীটি ময়মনসিংহ থেকে বাসে করে ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছায়। সেখানে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এক ব্যক্তি তাকে রিসিভ করে সিএনজিতে তুলে পাঁচগাঁও এলাকার নির্জন খালের পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা অভিযুক্তরা কিশোরীটিকে বলপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

 ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ডিবি ও থানা পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে।

ভালুকা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।