স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও হয়নি সেতু, করতোয়ার বাঁশের সাঁকোই ১০ গ্রামের ভরসা
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই এখন ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সরাইদহ এলাকায় একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে ৫৪ বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাইদহ, লক্ষ্মীকোলা, খোকশা হাট, পাইকোরা, শ্যামনাই ও ভূঁইয়াগাঁতীসহ আশপাশের ১০টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকোটি ব্যবহার করছেন। এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে এই সাঁকো নির্মাণ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে কৃষক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও রোগীরা এই নড়বড়ে পথে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই জনপদের পাশ দিয়েই গেছে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক এবং এর একটি বাইপাস সড়ক। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি অবস্থানের কাছে থেকেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ অবধি এখানে কোনো স্থায়ী সেতু নির্মিত হয়নি। বর্ষা মৌসুমে যখন নদীর পানি বৃদ্ধি পায়, তখন এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং পিচ্ছিল সাঁকো থেকে পড়ে আহতের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় আশি ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ শাহজাহান শেখ ও আবুল হোসেন বলেন, "আমাদের জীবন শেষ হয়ে এল, কিন্তু এখানে একটা পাকা ব্রিজ দেখলাম না। এই বয়েসে নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে চলতে ভয় লাগে। ভোটের আগে অনেক আশ্বাস পাই, কিন্তু কাজ হয় না।" স্কুল শিক্ষার্থীরা জানায়, বৃষ্টি হলে সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে যায়, তখন স্কুলে যাওয়াই দায় হয়ে পড়ে। অনেক সময় পা পিছলে বই-খাতা নিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তারা দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ভি পি আয়নুল হকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম জানান, "সরাইদহ এলাকায় যাতায়াতের দুর্ভোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এলাকাবাসীর সুবিধার কথা বিবেচনা করে সেখানে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠানো হবে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments