গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনির্বাচিত গকসু নেতৃত্বের অভিষেকের অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা
দীর্ঘ সাত বছরের বিরতির পর গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) সম্পন্ন হয়েছে চতুর্থ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন। তবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্বভার গ্রহণ না হওয়ায় নবনির্বাচিত নেতৃত্ব এখনো কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন একটিই প্রশ্ন—কবে অনুষ্ঠিত হবে অভিষেক অনুষ্ঠান?
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজার ছুটি শেষে অভিষেক ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তবে প্রশাসন এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি। এই বিলম্বের কারণে নির্বাচনের পর সৃষ্ট উৎসবমুখর পরিবেশ এখন অপেক্ষার আবহে রূপ নিয়েছে।
নির্বাচনের উৎসবমুখরতা
২৫ সেপ্টেম্বর গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। দীর্ঘ সাত বছর পর শিক্ষার্থীরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তাদের নেতৃত্ব বেছে নিয়েছেন। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, প্রার্থীদের উৎসাহী প্রচারণা এবং ভোটের দিন ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ শিক্ষার্থীদের মনে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়েছে। এই নির্বাচনে সম্পাদকীয় ও অনুষদ প্রতিনিধি পদ মিলিয়ে মোট ১২টি পদে ৫৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটার সংখ্যা ছিল ৪,৭৬১ জন।
অভিষেকের বিলম্বে উদ্বেগ
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হলেও আনুষ্ঠানিক অভিষেক ও শপথগ্রহণ না হওয়ায় নবনির্বাচিতরা এখনো তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করতে পারেননি। এই বিলম্বের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রেশমা আক্তার বলেন, “নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হলেও নির্বাচিত সদস্যরা এখনো শপথ গ্রহণ করেননি। এই বিলম্বের সুযোগে কিছু মহল নির্বাচন নিয়ে অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সফল করতে এবং অপপ্রচার রোধে দ্রুত শপথগ্রহণের ব্যবস্থা করা জরুরি। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া।”
প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি
নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি ইয়াছিন আল মৃদুল দেওয়ান জানান, “নির্বাচনের পরের দিন ছুটির দিন ছিল এবং দুর্গাপূজার ছুটির কারণে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। আমি উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, পূজার ছুটির পর যত দ্রুত সম্ভব অভিষেক ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, “ছুটি শেষে শপথগ্রহণ ও অভিষেক অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এখনো কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি।”
গকসুর ইতিহাস
প্রসঙ্গত, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম গকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৩ সালে। এরপর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর চতুর্থ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নবনির্বাচিত নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের জন্য। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গকসুর নতুন যাত্রা শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।




Comments