বিশ্বসংগীতের মুকুটহীন সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের প্রয়াণের দেখতে দেখতে ১৭টি বছর পেরিয়ে গেল। ২০০৯ সালের ২৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৫০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই পপ তারকা। জীবন ও মৃত্যুর ব্যবধানে দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও বিশ্বজুড়ে তার আবেদন এতটুকু কমেনি। ১৭তম প্রয়াণবার্ষিকীতে এসে তাকে নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনা এবার একটু বেশিই, কারণ সম্প্রতি রূপালি পর্দায় মুক্তি পেয়েছে এই কিংবদন্তির জীবননির্ভর বহুল আলোচিত বায়োপিক ‘মাইকেল’।
চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যান্টোইন ফুকা পরিচালিত এবং লায়ন্সগেট ও ইউনিভার্সাল পিকচার্স প্রযোজিত ‘মাইকেল’ সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছে। প্রায় ১৫৫ থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত এই সিনেমাটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ৯৬০ মিলিয়নেরও বেশি মার্কিন ডলার আয় করে ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে সফল ও সর্বোচ্চ আয়কারী মিউজিক্যাল বায়োপিক হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে। সিনেমাটিতে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন মাইকেলের আপন ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। জাফর পর্দায় হুবহু তার চাচার লুক, কণ্ঠ ও আইকনিক নাচের মুদ্রা ফুটিয়ে তুলে দর্শকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
১৯৬৪ সালে ভাইদের সঙ্গে ‘জ্যাকসন ৫’ ব্যান্ডের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করা মাইকেল ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করেন একক পথচলা। আশির দশকে বিশ্বসংগীতকে একাই শাসন করে তিনি অর্জন করেন ‘কিং অব পপ’ উপাধি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘বিট ইট’, ‘বিলি জিন’, ‘থ্রিলার’, ‘ব্যাড’, ‘হিল দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর মতো অসংখ্য কালজয়ী গান। গানের পাশাপাশি তার সিগনেচার ‘মুনওয়াক’ নাচ তাকে এক চিরন্তন সাংস্কৃতিক আইকনে পরিণত করেছে। সংগীতের ক্যারিয়ার যতটা জমকালো ছিল, মাইকেলের ব্যক্তিগত জীবন ততটাই ঘেরা ছিল রহস্য আর বিতর্কে। ২০১১ সালে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক কনরাড মারে অবহেলার কারণে অনিচ্ছাকৃত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়েও নতুন প্রজন্মের কাছে মাইকেল জ্যাকসনের জাদু আজও অমলিন।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments