কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের দুই আবাসিক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। হামলায় এক শিক্ষার্থীর নাক ফেটে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে হলের ছাদে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ কাব্য এবং অর্থনীতি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের তৌফায়েল মাহমুদ নিবিড়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও আতিকুর রহমান গত চার দিন ধরে বলপ্রয়োগ করে হলের ৫০০২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার রাতে হলের ছাদে নিবিড় ও সৌরভের সঙ্গে আতিকুরের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আতিকুর উত্তেজিত হয়ে নিবিড়কে চড় মারেন এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। সৌরভ এর প্রতিবাদ করতে গেলে আতিকুর তার নাকে সজোরে ঘুষি মারেন, এতে সৌরভের নাক ফেটে রক্তপাত শুরু হয়। এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে আতিকুরকে ধাওয়া দিলে তিনি হল ছেড়ে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী নিবিড় বলেন, "আতিক ভাই অবৈধভাবে হলে থাকার চেষ্টা করছিলেন। আমি তাকে নিয়ম মেনে প্রভোস্টের মাধ্যমে আসতে বলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের ওপর হামলা করেন।"
শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, "এটি একটি দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা। আতিকুরের হলে থাকার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট জনি আলম জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, "ছাত্রত্ব শেষ হওয়া কারো হলে থাকার সুযোগ নেই। আমরা হাউস টিউটরদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments