Image description

মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পাচ্ছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৫৪ বছর পর দেশের প্রথম এই ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিলল। আগামী ২৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেবেন।

বীর বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের অর্ধশত ছাত্রের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ পুরো জাতির জন্য এক স্বর্ণালি অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাক হানাদার বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণের পর দেশমাতৃকাকে রক্ষায় বুক চিতিয়ে লড়াইয়ে নামেন এই কলেজের শিক্ষার্থীরা, যারা ‘ফৌজিয়ান’ নামে পরিচিত। যুদ্ধের দীর্ঘ ৯ মাস তাদের অকুতোভয় সংগ্রাম পুরো জাতিকে প্রেরণা জুগিয়েছিল।

দেশকে শত্রুমুক্ত করার এই লড়াইয়ে জীবন উৎসর্গ করেন ৮ জন ফৌজিয়ান। তারা হলেন— মেজর এম.এ. খালেক (১ম ব্যাচ), ক্যাপ্টেন এ.কে.এম. নুরুল আবসার (২য় ব্যাচ), মোশাররফ হোসেন (৩য় ব্যাচ), লে. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বীরউত্তম (৭ম ব্যাচ), মো. বদিউল আলম, বীরবিক্রম (৭ম ব্যাচ), ক্যাপ্টেন সামসুল হুদা (৭ম ব্যাচ), মুফতি মোহাম্মদ কাসেদ (৭ম ব্যাচ) এবং ২য় লে. রফিক এ. সরকার (১০ম ব্যাচ)। তাঁদের এই সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে জাতি।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য এই কলেজের ১১ জন ছাত্র রাষ্ট্রীয় খেতাব লাভ করেন। এর মধ্যে ‘বীর উত্তম’ পদক পান লে. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (৭ম ব্যাচ)। ‘বীর বিক্রম’ পদক পান মো. বদিউল আলম (৭ম ব্যাচ), নাসিম (৫ম ব্যাচ), লে. জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ কামরুল হক স্বপন (৭ম ব্যাচ) এবং মে. জেনারেল ইমাম উজ জামান (১০ম ব্যাচ)।

এছাড়া ‘বীর প্রতীক’ খেতাব পান কর্নেল আবু তাহের সালাহ উদ্দিন (৪র্থ ব্যাচ), মেজর রওশন ইয়াজদানী ভূঁইয়া (৬ষ্ঠ ব্যাচ), মে. জেনারেল সায়ীদ আহমেদ (৮ম ব্যাচ), মে. জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম (৯ম ব্যাচ), লে. কর্নেল কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (১০ম ব্যাচ) এবং ক্যাপ্টেন মো. হুমায়ুন কবির চৌধুরী (১০ম ব্যাচ)।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের মোট ৫০ জন ছাত্র সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে ১১ জন খেতাবপ্রাপ্ত এবং ৮ জন শহীদ হয়েছেন। বাংলাদেশের অন্য কোনো উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে এমন বীরত্বপূর্ণ নজির দ্বিতীয়টি নেই। এই ঐতিহাসিক প্রাপ্তিতে বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রসহ সংশ্লিষ্ট মহলে আনন্দের জোয়ার বইছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর