মাভাবিপ্রবি প্রক্টরের ‘রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা’ নিয়ে বিতর্ক, মুখ খুললেন অভিযুক্ত শিক্ষক
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) নবনিযুক্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেনের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পূর্বের সরকারের সময়কার কিছু কর্মকাণ্ডের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে দেখা যায় আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন দলীয় ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অধ্যাপক ইমাম হোসেনের সরব উপস্থিতি ছিল। এর মধ্যে ১৫ আগস্টের কর্মসূচি পালন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে তাকে দেখা যায়।
এ নিয়ে ক্যাম্পাসের একটি অংশ দাবি করছে, প্রক্টর হওয়ার দৌড়ে রাজনৈতিক মতাদর্শকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা থেকেই তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবে অন্য একটি পক্ষ বলছে, তৎকালীন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের খাতিরে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করাটা কেবল পেশাগত কর্তব্যের অংশ ছিল, এর সঙ্গে রাজনৈতিক আদর্শের সম্পর্ক নেই।
বিতর্কের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেন বলেন, “আমি সবসময় পেশাদারিত্বকে গুরুত্ব দিয়েছি। তৎকালীন সময়ে দায়িত্ববোধ ও রাষ্ট্রীয় কর্তব্য পালনের অংশ হিসেবেই আমাকে সেসব কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে হয়েছিল। এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বা আদর্শ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য ছিল না। এখন যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব ছবি প্রচার করছে, তাদের লক্ষ্য অসৎ।”
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেনকে নতুন প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রক্টরের এই ‘রাজনৈতিক অতীত’ তার বর্তমান প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন মহলে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments