রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দিরের পুরোহিত সুভাষ দেউরীকে (২৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। একই সঙ্গে তাকে রাতভর জিম্মি করে নির্যাতন, বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং পরিবারের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার সকালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুভাষকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের শ্যামল দেউরীর ছেলে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ওয়ারীর ১৫ নারিন্দা রোডের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
আহতের রুমমেট দুর্জয় সাহা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওষুধ কিনতে বাসা থেকে বের হয়ে নারিন্দা রোডের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ৬-৭ জনের একটি সশস্ত্র দল তার ওপর হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তার মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর জখম করে।
দুর্জয়ের অভিযোগ, হামলার পর সুভাষকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং তাকে জিম্মি করে রাতভর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
তিনি জানান, প্রাণভয়ে তিনি নিজে বিকাশের মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা পাঠান। এছাড়া সুভাষের পরিবারও আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দুর্বৃত্তদের দেওয়া নম্বরে পাঠাতে বাধ্য হয়। একই সঙ্গে সুভাষের ব্যাংকের চেকবই ও বিভিন্ন পিন নম্বরের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের সময় দুর্বৃত্তরা তার সামনেই মাদক সেবন করে।
ভোররাতের দিকে সুভাষের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে তাকে বাসার সামনে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
রুমমেট দুর্জয় আরও জানান, রাতে সুভাষ বাসায় না ফেরায় এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। একই রাতে বিষয়টি ওয়ারী থানাকেও জানানো হয়েছিল।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, আহত সুভাষ দেউরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে এবং জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি ওয়ারী থানাকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।




Comments