রাজধানীর পল্লবীতে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার শিকার শিশু রামিসার শোকাতুর পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেড় মাস আগে একই কায়দায় খুন হওয়া ৬ বছরের শিশু নিশাতের বাবা আবু সাদেক মিয়া। দুই সন্তানের অকালমৃত্যু আর বিচারহীনতার যন্ত্রণা যেন আজ মিলেমিশে একাকার।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে পল্লবীতে রামিসার বাসার সামনে যখন আবু সাদেক মিয়া দাঁড়ালেন, তখন তাঁর চোখজুড়ে ছিল জল আর কণ্ঠে ছিল হাহাকার। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘দেড় মাস হলো আমার বাচ্চাটা মারা গেছে, আজও আমার চোখে ঘুম আসে না। ফেসবুকে যখন রামিসার ঘটনার কথা দেখলাম, তখন আর ঘরে থাকতে পারলাম না। ভাবলাম অভাগা এই বাচ্চাটার বাবা-মায়ের সাথে একটু দেখা করে আসি।’
নিজের মেয়ের ওপর হওয়া বর্বরতার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে নিশাতকে শ্বাসরোধ করে, হাত-পা ভেঙে নির্মমভাবে নির্যাতন করে মারা হয়েছে। কিন্তু দেড় মাস পার হয়ে গেলেও মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। পুলিশ এখন পর্যন্ত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয়নি। আমরা বিচার চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, এসব শিশু হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।’
উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে দোকান থেকে চিপস কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্রী নিশাত। অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ায় প্রতিবেশী ইসহাক মিয়া তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। নিখোঁজের দুই দিন পর ১৭ এপ্রিল বাড়ির পাশের একটি খোলা জায়গা থেকে নিশাতের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় মামলা হলেও বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার বাবা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments