বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের অবস্থান কর্মসূচি
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংকটিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে টানা ২১তম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’।
সোমবার (২২ জুন) সকালে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
আন্দোলনকারীদের মিছিলটি রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নেয়। এ সময় ফোরামের সদস্য ও সাধারণ গ্রাহকেরা বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করে দ্রুত তাদের দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের প্রতি কোটি কোটি আমানতকারীর গভীর আস্থা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং স্বচ্ছতার অভাব ব্যাংকটির সুনাম ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে অবিলম্বে সৎ, যোগ্য এবং অভিজ্ঞ পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানান তারা।
ফোরামের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। তাঁরা বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
আন্দোলনকারীদের ঘোষিত ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
১. অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পরিচালনা পর্ষদ গঠন।
২. ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করা।
৩. অনিয়মের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা।
৪. আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
৫. শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
৬. ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
৭. গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গ্রাহকেরা জানান, ইসলামী ব্যাংককে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত না করা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয় সমাবেশ থেকে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments