সুন্দরবনের গহীন অরণ্য থেকে অপহৃত দুই পর্যটক ও গোলকানন রিসোর্টের মালিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। টানা তিন দিনের রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে দাকোপের গাজী ফিশারিজ এলাকা থেকে ড্রোন সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃতরা হলেন- দাকোপের ঢাংমারী এলাকার গোলকানন রিসোর্টের মালিক শ্রীপতি বাছাড় এবং পর্যটক সোহেল ও জনি।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে সুন্দরবনের কেনুয়ার খাল এলাকা থেকে বনদস্যু ‘মাসুম বাহিনী’ এই তিনজনকে অপহরণ করে। এরপর জিম্মিদের মুক্তি দিতে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দস্যুরা।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়। অভিযানে প্রযুক্তির সহায়তায় ও ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে দস্যুদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। যৌথ বাহিনীর ব্যাপক চাপের মুখে বনদস্যুরা জিম্মিদের বনের মধ্যে ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বনদস্যু মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার ও আলম মাতব্বরসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া খুলনার রূপসা থেকে মুক্তিপণের টাকা সংগ্রহ করার সময় ডাকাত মাসুমের মা জয়নবী বিবি এবং মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট অয়ন কুন্ডুকেও আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে বাহিনীর মূল হোতা মাসুম মৃধা এখনো পলাতক রয়েছে।
দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, উদ্ধারকৃতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক বনদস্যুদের ধরতে এবং বন এলাকা নিরাপদ রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments