Image description

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার মোহনকাঠী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. জগলুল ফারুকের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে দুই মাস আগে কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ জগলুল ফারুক কলেজের শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি টিউশন ফি আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া কলেজের পুকুর লিজের টাকা কলেজ ফান্ডে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রাখা, চত্বরে রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার হিসাব না দেওয়া এবং ব্যাংক হিসাব থেকে কোনো অনুমোদন ছাড়াই ৬৫ হাজার টাকা তুলে ব্যক্তিগত কাজে খরচ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দুর্নীতির ফিরিস্তি এখানেই শেষ নয়; ডিজিটাল হাজিরা ও সিসি ক্যামেরা কেনার নামে কলেজ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিলেও তার কোনো হদিস নেই। প্রতি বছর কলেজ নবায়নের কথা বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ২৫-৩০ হাজার টাকা তুললেও মাত্র ১০-১২ হাজার টাকা খরচ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। এছাড়া ডিজিটাল ল্যাবের বরাদ্দ এবং সরকারি নিয়মে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন না করারও অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিয়মিত কলেজে না এসে মাসে মাত্র ২-৩ দিন উপস্থিত হয়ে একবারে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন বলেও জানা গেছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি তুলেছেন কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শ্যামল কান্তি কর গুপ্ত। তিনি ২০২৪ সালের এপ্রিলে অবসরে গেলেও এখন পর্যন্ত তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষ তার হিসাব সহকারী সামচুল হকের মাধ্যমে ওই শিক্ষকের কাছে ছাড়পত্রের বিনিময়ে এক লক্ষ টাকা দাবি করেছেন।

এসব অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে কলেজের এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. নাজমুল হুদা গত বছরের ২০ অক্টোবর এবং পরবর্তীতে ৬ নভেম্বর ১২ জন অভিভাবকের স্বাক্ষরসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজের সভাপতি লিখন বনিকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু অভিযোগের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. জগলুল ফারুক তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “একটি মহল আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এডহক কমিটির সভাপতি লিখন বনিক অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “অভিযোগ তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান কে এবং তদন্তের অগ্রগতি কী, তা অফিস ফাইল দেখে বিস্তারিত বলতে হবে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর