সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা এলাকায় অস্তিত্ব সংকটে থাকা ঐতিহ্যবাহী কেশরখালী খাল রক্ষায় মাঠে নেমেছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল ও দূষণের কবলে পড়ে মৃতপ্রায় এই খালটি উদ্ধারে শনিবার দিনব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বিডি ক্লিন’।
একসময় নৌ-চলাচলযোগ্য ও খরস্রোতা এই খালটি বর্তমানে ময়লা-আবর্জনা ও অবৈধ স্থাপনায় প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। সম্প্রতি ‘দৈনিক মানবকণ্ঠ’ পত্রিকায় খালটির বেহাল দশা নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে পরিবেশবাদীদের। এরই ধারাবাহিকতায় বিডি ক্লিনের একদল স্বেচ্ছাসেবী চান্দাইকোনা মহাসড়কের ওপর নির্মিত ব্রিজসহ খালের আশপাশ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালায়।
অভিযান চলাকালে বিডি ক্লিন টিমের সদস্য সিয়াম আহমেদ ও রায়হান বলেন, “খালের দখল ও দূষণ শুধু পরিবেশ নয়, স্থানীয় মানুষের জনস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্যও মারাত্মক হুমকি। নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা খালটি রক্ষার ক্ষুদ্র চেষ্টা করছি। প্রশাসনের কার্যকর সহায়তা পেলে এই উদ্যোগ আরও ফলপ্রসূ হবে।”
স্থানীয় জলবায়ু কর্মী ফয়সাল বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে দখল ও দূষণের মাধ্যমে খালটি ধ্বংস করা হচ্ছে। দীর্ঘ এই সময়ে খাল রক্ষায় জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই এগিয়ে এসেছি।”
এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসনও। সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার ইতোমধ্যে সরেজমিনে খালটি পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, প্রথম ধাপে বেশ কয়েকটি খাল সংস্কার করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে কেশরখালী খালকেও এই সংস্কার কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে খালটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে চান্দাইকোনা বাজার, প্রধান সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। তারা দ্রুত খালটি দখলমুক্ত করে পুনরায় নৌ-চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments