বরগুনার আমতলীতে গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে পাঁচটি দোকান। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত এবং একটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোছখালী বাঁধঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাতে দোকানপাট বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা বাড়ি চলে যাওয়ার পর হঠাৎ একটি দোকানে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলো হলো- মোশারফ হোসেনের 'ছাত্র বন্ধু লাইব্রেরি', খোকন হাওলাদার ও ইদ্রিস মোল্লার মুদি ও মনোহরি দোকান, আবু তাহেরের ফার্মেসি এবং যুগল বাবুর দোকান।
সব হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া ছাত্র বন্ধু লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী মোশারফ হোসেন বলেন, "প্রতিদিনের মতো রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে গিয়েছিলাম। শেষ রাতে খবর পাই দোকানে আগুন লেগেছে। এসে দেখি সব শেষ। এক টাকার মালামালও বের করতে পারিনি। আমি এখন পুরোপুরি নিঃস্ব।"
গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং একটি আংশিক পুড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. হানিফ বলেন, "খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। আমাদের হিসেবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১৫ লাখ টাকা।"
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী জানান, গভীর রাতে আগুন লাগার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, "ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা প্রদান করা হবে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments