Image description

ময়মনসিংহের ভালুকায় শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী মূলহোতা ইমাম ইয়াছিন আরাফাতকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে জেলা পুলিশ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহযোগিতায় রাজধানীর ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইয়াছিন আরাফাত ভালুকা থানার দক্ষিণ হবিরবাড়ি (কড়ইতলা মোড়) এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, গত ১৮ ডিসেম্বর হত্যাকাণ্ডের দিন পাইওনিয়ার ফ্যাক্টরির গেটে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে লোক জড়ো করার পেছনে প্রধান ভূমিকা ছিল আরাফাতের। তিনি উত্তেজিত জনতাকে উসকানি দিয়ে দীপুকে নির্মমভাবে মারধর করান। দীপুকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ রশি দিয়ে টেনেহিঁচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে মহাসড়কের বিভাজকের গাছে ঝুলিয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরাফাত সরাসরি নেতৃত্ব দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইয়াছিন আরাফাত ভালুকার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও গত ১৮ মাস ধরে তিনি উপজেলার কাশর এলাকায় শেখবাড়ি মসজিদে ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি দীর্ঘ ১২ দিন দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় আত্মগোপনে ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকার ডেমরা এলাকায় পরিচয় গোপন করে ‘সুফফা মাদ্রাসা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।

পুলিশ আরও জানায়, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগে ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ‘পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড’ কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় সড়ক বিভাজকের একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা।

নিহত দীপু চন্দ্র দাসের বাড়ি জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়াকান্দা গ্রামে। এই ঘটনায় নিহতের ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০-১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর