Image description

হবিগঞ্জের মাধবপুরে গত কয়েকদিন ধরে হাড়কাঁপানো শীত ও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশা আর উত্তরী হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দিনের অধিকাংশ সময় সূর্যের দেখা না মেলায় এবং হিমেল বাতাসের কারণে ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রাতের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ১৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। তীব্র শীত থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে অনেককে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। মাধবপুর বাজারসহ বিভিন্ন মোড়ে রিকশাচালক, দিনমজুর ও পথচারীরা আগুনের কুন্ডলী পাকিয়ে শরীর গরম করার চেষ্টা করছেন।

তীব্র শীতের প্রভাবে এলাকায় শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোতে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ অবস্থায় গরম কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি কুসুম গরম পানি ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

শীতের প্রকোপ মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়েছে। মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাশেম জানান, সরকারি তহবিল থেকে ইতিমধ্যে আড়াই হাজার শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে বেশ কিছু এলাকায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল পৌঁছে দিয়েছি। তবে চাহিদার তুলনায় এটি পর্যাপ্ত নয়, তাই আমরা আরও বরাদ্দের চেষ্টা করছি।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শীতের তীব্রতা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা জরুরি। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে শীতবস্ত্র প্রয়োজন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর