Image description

উত্তরের জনপদ নীলফামারীর সৈয়দপুরে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে শীতার্ত মানুষের পাশে উষ্ণতার পরশ নিয়ে হাজির হয়েছেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গভীর রাতে সৈয়দপুর দুর্গামন্দির সংলগ্ন এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের মাঝে নিজ হাতে কম্বল বিতরণ করেন তিনি। কনকনে শীত উপেক্ষা করে গভীর রাতে প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে সৈয়দপুরে তাপমাত্রার পারদ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এমন বৈরী আবহাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে বা জরাজীর্ণ ঘরে বসবাসকারী মানুষ শীতের প্রকোপে কাবু হয়ে পড়েছেন।

কম্বল বিতরণকালে ইউএনও ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, "শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে উপজেলা প্রশাসনের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। এটি কেবল এক দিনের জন্য নয়, আমাদের এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সরকারিভাবে আমরা এখন পর্যন্ত ৬৮৪টি কম্বল ও ২ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। এছাড়া আরও ৪০০টি কম্বল পাইপলাইনে রয়েছে। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কিছুটা কম হলেও আমরা চেষ্টা করছি যেন কোনো প্রকৃত অভাবী মানুষ শীতের কষ্ট না পায়।"

গভীর রাতে হঠাৎ কম্বল পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ছিন্নমূল মানুষগুলো। তারা জানান, এই হাড়কাঁপানো শীতে একটি কম্বল তাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। ইউএনও’র এমন সহানুভূতিশীল আচরণে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিতরণ শেষে ইউএনও সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "প্রশাসনের পাশাপাশি যদি সমাজের বিত্তবান মানুষগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে শীতার্তদের পাশে দাঁড়ান, তবে কোনো মানুষকেই শীতে কষ্ট পেতে হবে না।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর