Image description

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে লুণ্ঠিত স্বর্ণের মধ্যে ২৯০ ভরি (২৯টি বার) উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ছিনতাইয়ের মূল হোতা সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মো. মাসুদ রানা প্রকাশ বাইক বাবু (৩০), রফিকুল ইসলাম প্রকাশ ইমন (২২), রবি কুমার দাস (৪০), সুমনের স্ত্রী পান্না রানী দাস (৩৮) এবং মামলার গোপন তথ্যদাতা বিবেক বনিক (৪২)।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৪ জানুয়ারি ভোরে সবুজ দেবনাথ নামের এক ব্যক্তি তার দুই সহযোগীকে নিয়ে সিএনজিযোগে কোতোয়ালী থেকে অক্সিজেনের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আতুরার ডিপো এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার ছিনতাইকারী তাদের গতিরোধ করে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩৫টি স্বর্ণের বার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা হওয়ার পর সিএমপির ডিবি (উত্তর) বিভাগ ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ আভিযানিক দল তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৮ জানুয়ারি বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমন, মাসুদ ও ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করেন যে, তার নেতৃত্বেই এই ছিনতাই সংঘটিত হয়েছে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিএমপির মোহাম্মদপুর ও সিএমপির হালিশহর এলাকা থেকে রবি কুমার দাস ও পান্না রানী দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ছিনতাইয়ের মূল তথ্য সরবরাহকারী হিসেবে কোতোয়ালী এলাকা থেকে বিবেক বনিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, লুণ্ঠিত স্বর্ণের বারগুলো প্রথমে সুমনের স্ত্রী পান্না রানীর কাছে রাখা হয় এবং পরে তা রবি কুমারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে একটি পানির ফিল্টারের কিট বক্সের ভেতর থেকে স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় ২৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

সিএমপি জানিয়েছে, ছিনতাই হওয়া বাকি স্বর্ণ উদ্ধার এবং এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর