কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অবৈধ উপায়ে উত্তর সরবরাহের প্রস্তুতিকালে বিশেষ প্রযুক্তি সম্পন্ন ডিভাইসসহ ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে নাগেশ্বরী উপজেলা শহরের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম ডিবি পুলিশ ও নাগেশ্বরী থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। আটককৃতদের মধ্যে অন্যতম হলেন বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের লুছনী আনন্দবাজার গ্রামের মিনারুল ইসলাম, যিনি আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।
আটক অন্য ব্যক্তিরা হলেন- আনোয়ার হোসেন, শাহজামাল, মো. বেলাল হোসেন, বাবু ইসলাম, জান্নাতুল নাঈম মিতু, আব্দুল লতিফ ও শরিফুজ্জামান সিদ্দিকী।
এছাড়া মাদারীপুর জেলার শিবচর ও রাজৈর এলাকার হিমেল মাহমুদ ও চামেলী আক্তার এবং ঢাকার রামপুরার মাহবুব খানকেও আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পরীক্ষার হল থেকে একজন ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থীকে আটক করেন নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন জাহান লুনা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৩টায় কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, উলিপুর ও সদর উপজেলার ৩৮টি কেন্দ্রে একযোগে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৪ হাজার ২৭৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি ১৪৪ ধারা জারি ছিল।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান জানান, "গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জালিয়াতি চক্রের ১১ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ইউএনও মহোদয় একজনকে হল থেকে আটক করেছেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত আলামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন জাহান লুনা জানান, আটককৃতরা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। জালিয়াতির চেষ্টা চললেও সার্বিকভাবে পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments