Image description

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের ১৩১ নম্বর হরিদ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি এখন শিক্ষার্থীদের জন্য এক 'মৃত্যুফাঁদে' পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ তিন বছর আগে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ কক্ষেই চলছে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে নির্মিত এই ভবনটি ২০২১ সালেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। বর্তমানে ভবনের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে কঙ্কালসার অবস্থা তৈরি হয়েছে। ক্লাস চলাকালীন প্রায়ই পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটছে। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটলেও ভবনটি পুনর্নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের করুণ দশার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের চারপাশের পরিবেশও প্রতিকূল। বিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো খেলার মাঠ নেই। সিঁড়ি দিয়ে নামলেই ধানক্ষেত। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত মাঠের জমি দখল করে সেখানে প্রভাবশালীরা ধান চাষ করছে। খেলার জায়গা না থাকা এবং দুর্ঘটনার আতঙ্কে অভিভাবকরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। একসময় বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ১০০-এর নিচে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাসলিমা আক্তার বলেন, "ভবনটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি। বাধ্য হয়েই পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে।"

স্থানীয় সমাজসেবক বদিউজ্জামান সায়েদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই করুণ দশা মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ এবং বেদখল হওয়া মাঠ উদ্ধার না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।"

এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জিনাত জাহান জানান, বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন এবং মাঠ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করা হবে।

নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হরিদ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ ও মাঠ উদ্ধারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

মানবকণ্ঠ/ডিআর