বারহাট্টায় জাল খারিজ দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি চেষ্টার রহস্য ফাঁস
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জাল নাম খারিজ (মিউটেশন) কাগজ ব্যবহার করে জমির দলিল রেজিস্ট্রি করার একটি অভিনব জালিয়াতি ধরা পড়েছে। সাব-রেজিস্ট্রারের তৎপরতায় এই চক্রের কারসাজি ফাঁস হয়।
গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দলিল দাখিলের সময় এই ঘটনা ঘটে।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দলিল দাখিলের সময় নাম খারিজের কাগজ দেখে সন্দেহ হয় সাব-রেজিস্ট্রার তাজুল ইসলামের। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি অনলাইনে যাচাই করে নিশ্চিত হন যে নাম খারিজটি সম্পূর্ণ ভুয়া। বিষয়টি জানাজানি হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে সাব-রেজিস্ট্রার দলিল দাতা ও গ্রহীতাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেন এবং উপজেলা ভূমি অফিসকে বিষয়টি অবহিত করেন।
জানা গেছে, দলিল দাতা রোমা আক্তার ও গ্রহীতা মিলন মিয়া সম্পর্কে আপন খালা-ভাগ্নে এবং তারা রায়পুর ইউনিয়নের দুধকুড়া গ্রামের বাসিন্দা। গ্রহীতা মিলন মিয়া জানান, এক বছর আগে ৫ শতাংশ জমি খারিজের জন্য প্রতিবেশী সাদেক মিয়াকে ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাকে জাল কাগজ ধরিয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সাদেক মিয়া দায় চাপিয়েছেন মুস্তাকিম নামে এক ব্যক্তির ওপর। সাদেকের দাবি, তিনি রায়পুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কথিত 'উদ্যোক্তা' মুস্তাকিমকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছিলেন খারিজের জন্য। তবে মুস্তাকিম টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও খারিজের জন্য আবেদন করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে রায়পুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বর্তমান নায়েব নাসরিন জাহান সাফ জানিয়ে দেন, "আমাদের অফিসে কোনো উদ্যোক্তা নেই। এই খারিজের কপিটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং আমাদের অফিসের কেউ এর সাথে জড়িত নয়।"
বারহাট্টা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাজেদুল ইসলাম বলেন, "সাব-রেজিস্ট্রার মারফত বিষয়টি জেনেছি। আমাদের রেকর্ডে এমন কোনো খারিজের অস্তিত্ব নেই। জালিয়াতির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, ভূমি অফিসের নাম ভাঙিয়ে কেউ জালিয়াতি করলে বা সরাসরি জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments