Image description

নোয়াখালীর চাটখিল ও সোনাইমুড়ী উপজেলায় জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক ভ্যাকসিনের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে সরকারি হাসপাতাল ও স্থানীয় ফার্মেসিতে ‘রেবিপুর’ বা ‘রেবিভ্যাক্স’ (Rabipur/Rabivax) জাতীয় কোনো ভ্যাকসিন না পাওয়ায় কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। প্রতিষেধকের খোঁজে অনেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ছুটছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি চাটখিল পৌরসভার পল্লী চিকিৎসক নূর হোসেন পলাশের ছেলে রিজন হোসেন (১৪) কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়। পরদিন ৪ জানুয়ারি নোয়াখলা গ্রামের রিকশাচালক নুরুল আলমকেও (৩০) কুকুরে কামড়ায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা কোনো ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে পারেননি। এছাড়া দুই উপজেলায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ কুকুর ও বিড়ালের কামড়ের শিকার হচ্ছেন, যারা হন্যে হয়ে হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানে ঘুরছেন।

বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি চাটখিল উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিপন জানান, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন মানুষ ভ্যাকসিনের সন্ধানে আসেন। কিন্তু বাজারে সরবরাহ না থাকায় আমরা তাদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছি।

সংকট প্রসঙ্গে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের এরিয়া ম্যানেজার নুরুল আমিন জানান, কয়েক মাস আগে তাদের কোম্পানি থেকে ৩ লাখ ভ্যাকসিন সরকারকে সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে বাজারে সরবরাহ করার মতো পর্যাপ্ত মজুত নেই। অন্যদিকে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের এরিয়া ম্যানেজার আব্দুল আলীম জানান, কাঁচামাল সংকটে তাদের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও দ্রুতই তা বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খন্দকার মোশতাক আহমেদ এবং সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, গত কয়েক মাস ধরে সরবরাহ না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সানি বলেন, “ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়টি আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে এবং ভ্যাকসিন সরবরাহ শুরু হবে।”

জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ হওয়ায় দ্রুত এই সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন চাটখিল ও সোনাইমুড়ীর সাধারণ মানুষ।

মানবকণ্ঠ/ডিআর