কুষ্টিয়া জেলায় জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিষেধক ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এমনকি বেসরকারি ফার্মেসিগুলোতেও দীর্ঘ দিন ধরে এই ভ্যাকসিন মিলছে না। ফলে কুকুর, বিড়াল, বানর ও বেজির কামড়ে আক্রান্ত হওয়া শত শত মানুষ জীবন রক্ষাকারী এই প্রতিষেধকের জন্য চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভ্যাকসিনের জন্য এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
তেমনই একজন রবিউল ইসলাম জানান, তার মাকে বিড়াল কামড়ানোর পর প্রথম দুই ডোজ কোনোমতে দিলেও তৃতীয় ডোজের জন্য পুরো শহর খুঁজেও কোনো ভ্যাকসিন পাননি। ইনসেপ্টা বা পপুলারের মতো বড় কোম্পানির ডিপোতেও মিলছে না এই প্রতিষেধক।
আরেক ভুক্তভোগী শাহিন ইকবাল শান্ত জানান, কুষ্টিয়ায় কোথাও ভ্যাকসিন না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ঝিনাইদহ থেকে এক আত্মীয়র মাধ্যমে এক হাজার টাকা খরচ করে ভ্যাকসিন আনিয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "কুষ্টিয়ার মতো বড় জেলায় জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন নেই, এটি ভাবতেই ভয় লাগে। সময়মতো ভ্যাকসিন না পেলে জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।"
কুষ্টিয়া শহরের মেরিন ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী কাভিয়াল নূর বাপ্পি জানান, তাদের ফার্মেসিতে আগে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫টি রেবিস ভ্যাকসিন বিক্রি হতো। বর্তমানে ইনসেপ্টা ও পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের সরবরাহ বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। গত প্রায় এক মাস ধরে এই সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জলাতঙ্ক বিভাগে কর্মরত রাজু আহমেদ জানান, আজ ১২৮ জন রোগী এসেছেন, যাদের সবাইকে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে আনতে হয়েছে।
তিনি জানান, গত বছরের ২১ নভেম্বর হাসপাতালের সরকারি স্টক শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম বলেন, "সরকারি পর্যায়ে প্রায় ছয় মাস ধরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই। বেসরকারিভাবে যে দুটি কোম্পানি সরবরাহ করত, গত এক মাস ধরে তারাও দিতে পারছে না। ফলে রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।"
তিনি আরও যোগ করেন, "জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ। সময়মতো ভ্যাকসিন না নিলে মৃত্যু অনিবার্য। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যোগাযোগ করছেন। আশা করছি দ্রুতই এই সংকট কেটে যাবে।" ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়াতে হাসপাতালে অতিরিক্ত ভ্যাকসিনের চাহিদা পাঠানো হবে বলেও তিনি জানান।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments