Image description

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হলেও ঘেরের পানি সেচ না দেওয়ায় বোরো আবাদ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কয়েকশ কৃষক। উপজেলার পশ্চিম সারুটিয়ার বরুনা বিলের প্রভাবশালী কয়েকজন ঘের মালিকের খামখেয়ালিপনায় ধান চাষ করতে না পেরে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছর ৩০শে পৌষের মধ্যে বিলের পানি নিষ্কাশনের শর্তে ঘের মালিকদের কাছে জমি লিজ দেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ২৫শে ডিসেম্বরের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের জন্য মাইকিং করা হয়েছিল। কিন্তু বরুনা বিলের ঘের মালিক মেজবাহ উদ্দিন মিল্টন, শিমুল হোসেন এবং সোহরাব হোসেন প্রশাসনের নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে বিল থেকে পানি সরাচ্ছেন না।

কৃষকদের দাবি, ঘের মালিকরা মূলত ১২ মাস মাছ চাষ করার উদ্দেশ্যে কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, লোকদেখানো দু-একটি মেশিন বসিয়ে রাখা হলেও পানি সেচ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ ছিল। তবে সম্প্রতি কৃষকদের চাপের মুখে গত দুই সপ্তাহ ধরে তারা একাধিক মেশিন দিয়ে পানি বরুনার খালে ফেলছেন। এতে হিতে বিপরীত হয়েছে; খালের পানি উপচে পাশের জমিতে রোপণ করা বোরো ধানের ক্ষেত নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমনকি পানির চাপে ঘেরের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ সংস্কারের কাজ করছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক শফিকুল ইসলাম, পীর আলী বাক্স ও আব্দুর রহমান বলেন, “এই জমিতে বোরো চাষ করেই আমাদের সারা বছরের অন্ন সংস্থান হয়। ঘের মালিকদের খামখেয়ালিপনার কারণে আমরা যদি এবার ধান রোপণ করতে না পারি, তবে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে তারা আমাদের স্বপ্ন নিয়ে খেলছে।”

অভিযুক্ত ঘের মালিক মেজবাহ উদ্দীন মিল্টন বলেন, “একটি মেশিন চলছে। আজ রোববারের মধ্যে বাকি সব মেশিন তুলে নেওয়া হবে।”

কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও কতিপয় ঘের মালিকের গাফিলতির কারণে অনেক কৃষক সময়মতো চাষ শুরু করতে পারছেন না। বিষয়টি উপজেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, “ঘের মালিকদের খামখেয়ালিপনার বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর