হবিগঞ্জের প্রাণ হিসেবে পরিচিত সুতাং নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে লাখাই উপজেলা। ‘সুতাং নদী বাঁচলে, বাঁচবে প্রাণ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে এক বিশাল ‘গণস্বাক্ষর কর্মসূচি’।
শিল্পবর্জ্যের বিষক্রিয়ায় মৃতপ্রায় নদীটিকে পুনরুদ্ধারে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আন্দোলন এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।
এই জনমত গঠন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠক পারভেজ হাসান। তিনি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন, হাট-বাজার এবং প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে নদী রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরছেন এবং স্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন।
কর্মসূচি চলাকালীন পারভেজ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, "সুতাং নদী আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য দিয়ে এই নদীকে আর ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না। যারা নদী দখল ও দূষণ করছে, তারা দেশ ও দশের শত্রু। সুতাং নদী রক্ষা না পেলে লাখাইয়ের কৃষি ও পরিবেশ বিপন্ন হবে।"
আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে তিনি জানান, সংগৃহীত গণস্বাক্ষরসহ অচিরেই হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিশাল মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
দাবি আদায় না হলে লাখাইবাসীকে সাথে নিয়ে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কঠোর কর্মসূচি পালন করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। প্রয়োজনে নদী রক্ষায় উচ্চ আদালতে রিট করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি জানান।
গণস্বাক্ষর চলাকালীন আন্দোলনকারীদের কণ্ঠে বিভিন্ন স্লোগান প্রতিধ্বনিত হয়। ‘বিষাক্ত বর্জ্য বন্ধ করো, সুতাং নদী রক্ষা করো’, ‘দখল-দূষণমুক্ত নদী চাই, বেঁচে থাকার অধিকার চাই’ এমনসব দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কর্মসূচিস্থল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক সময়ের প্রমত্তা সুতাং নদী এখন শিল্প বর্জ্যের কারণে বিষাক্ত নালায় পরিণত হয়েছে। নদীতে মাছের বংশবৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গেছে এবং পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশাসনের টনক নাড়াতে চান লাখাইয়ের সর্বস্তরের জনতা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments