Image description

মাধবপুর ও চুনারুঘাটের দিগন্তজোড়া চা বাগানের ঢালে ঢালে এখন বইছে নির্বাচনী হাওয়া। তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ‘গণভোট’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সে খবর এখনো পৌঁছায়নি প্রান্তিক এই জনপদে। সংসদ নির্বাচন নিয়ে উৎসবের আমেজ থাকলেও গণভোট নিয়ে চা শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম দ্বিধা ও প্রশ্ন।

হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনের অধীনে ২৩টি চা বাগানে এক লাখের বেশি ভোটার রয়েছেন। সরেজমিনে রেমা, বৈকণ্ঠপুর, লস্করপুর, তেলিয়াপাড়া, নোয়াপাড়া ও সুরমা চা বাগান ঘুরে দেখা গেছে, সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে শ্রমিকদের পরিষ্কার ধারণা থাকলেও গণভোটের নামই শোনেননি অনেকে। ব্যালটে আলাদা করে কোনো বিষয়ে মতামত জানাতে হবে কি না—তা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে।

সুরমা চা বাগানের এক নারী শ্রমিক বলেন, “আমরা তো কখনো এই ভোট (গণভোট) দেইনি। কীভাবে দিতে হবে, কেউ বলেওনি। ভোটের দিন যদি ভুল করি, সেই ভয় লাগছে।” লালচান চা বাগানের শ্রমিক নেতা ভারত মুন্ডা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিষয়টি যদি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে আমাদের আগে জানানো দরকার। চা শ্রমিক হলেও আমরা তো এই দেশেরই নাগরিক।”

শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রার্থীরা বাগানে এসে সংসদ নির্বাচনের ভোট চাইলেও গণভোট বা এর গুরুত্ব নিয়ে কোনো লিফলেট বিতরণ বা প্রচার চালানো হচ্ছে না। আমু চা বাগানের শ্রমিক শ্যামলী ভুমিজ জানান, তিনি ভোট দিতে যাবেন ঠিকই, কিন্তু কোন প্রশ্নে কীভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন তা নিয়ে তিনি বিভ্রান্ত। সুরমা চা বাগানের শ্রমিক সুশীল কর্মকারের মতে, চা বাগান এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে হলে কেবল লিফলেট নয়, বরং উঠান বৈঠক ও সরাসরি যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। চা বাগানগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও লিফলেট বিতরণ আরও জোরদার করা হবে।”

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম জানান, প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠী যেন বিভ্রান্ত না হয়, সে লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে সরাসরি প্রচারণা বাড়ানো হবে। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ায় ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া সহজভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার কাজ দ্রুত শুরু হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটের দিন ঘনিয়ে এলেও চা বাগানের বিশাল একটি অংশ যদি গণভোটের সঠিক অর্থ ও প্রক্রিয়া না জানে, তবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় জনগণের প্রকৃত অংশগ্রহণে ঘাটতি থেকে যেতে পারে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর