গোপালগঞ্জে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার বাদীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে এক গৃহবধূকে ইজিবাইক থেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং পর্যায়ক্রমে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কাশিয়ানী উপজেলার ঘোনাপাড়া বাজারে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম এসেছে ওই নারীর দায়ের করা পূর্ববর্তী একটি ‘ধর্ষণ চেষ্টা’ মামলার প্রধান আসামি ওহিদুল্লাহ তালুকদারের।
ভুক্তভোগী নারীর (২২) অভিযোগ, থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করায় তিনি গতকাল সোমবার (১২ জানুয়ারি) গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এজাহার হিসেবে গণ্য করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভুক্তভোগী গৃহবধূ ইজিবাইকে করে তার বোনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে কাশিয়ানীর খায়েরহাট এলাকার ওহিদুল্লাহ তালুকদারের নেতৃত্বে একদল যুবক ইজিবাইক থামিয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তাকে ঘোনাপাড়া বাজারের মামুনের বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বিবস্ত্র করে হাতে অস্ত্র ও মাদক দিয়ে আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও ধারণ করে আসামিরা। এই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওহিদুল্লাহসহ পাঁচজন এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন তাকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি উদ্ধার হন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- খায়েরহাট এলাকার মৃত খবির তালুকদারের ছেলে ওহিদুল্লাহ তালুকদার (৪৫), ঘোনাপাড়া এলাকার মৃত শাহজাহান মোল্লার ছেলে সান্টু মোল্লা (৪০), জঙ্গল মকন্দপুর এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে হৃদয় (২৬), ঘোনাপাড়ার মুন্নুর ছেলে ইমন (২৮) এবং দুলু ফকিরের ছেলে অসীম ফকির (৩৮)।
ভুক্তভোগী নারী জানান, ওহিদুল্লাহ তালুকদার এর আগেও তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। সেই ঘটনায় গত ৫ জানুয়ারি তিনি ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন (পিটিশন নম্বর-০৫/২০২৬), যা বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। ওই মামলা করার জেরেই ওহিদুল্লাহ তাকে এই জঘন্য কায়দায় অপহরণ ও গণধর্ষণ করে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাবের আলম মোল্যা বলেন, “ভিকটিমকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিবস্ত্র ছবি তোলা ও গণধর্ষণের ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে থানাকে মামলা রেকর্ডের নির্দেশ দিয়েছেন।”
শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ভুক্তভোগী নারী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আগের মামলার প্রতিশোধ নিতে তারা আমার ওপর এই পৈশাচিকতা চালিয়েছে। আমি এই হায়েনাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments