শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধায় রোগীর মৃত্যু: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
শরীয়তপুরে ঢাকাগামী একটি রোগীবহনকারী অ্যাম্বুলেন্স দুই দফা আটকে রাখার কারণে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে জমশেদ আলী ঢালী নামে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পালং মডেল থানায় মামলা দায়েরের পর প্রধান আসামি সুমন খানকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে নিহতের নাতি জোবায়ের হোসেন রোমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সুমন খান সদর উপজেলার কাচারি কান্দি এলাকার সুলতান খানের ছেলে।
রোগীর স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকালে ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা জমশেদ আলী ঢালী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে দ্রুত ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
স্বজনরা প্রথমে একটি স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সাড়ে ৬ হাজার টাকায় ভাড়া করেন। কিন্তু রোগী তোলার পর চালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করলে স্বজনরা সেটি বাতিল করে বিকল্প হিসেবে ৫ হাজার টাকায় অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সিন্ডিকেট।
ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর সদর উপজেলার কোটাপাড়া এলাকায় পৌঁছালে সুমন খান ও তার সহযোগীরা অ্যাম্বুলেন্সটির গতিরোধ করেন। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট বাকবিতণ্ডার পর স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে গাড়িটি ছাড়া পায়। এরপর জামতলা এলাকায় পৌঁছালে আবারও একই চক্র অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেয় এবং রোগী ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। সেখানে প্রায় ৪০ মিনিট গাড়িটি আটকে রাখা হয়।
অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধার কারণে প্রায় ১ ঘণ্টার বেশি সময় দেরি হয়ে যাওয়ায় ঢাকায় নেওয়ার পথেই জমশেদ আলীর মৃত্যু হয়। রাত ৩টার দিকে ঢাকার নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, “অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার কারণে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের এমন অমানবিক আচরণে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই চক্রের সাথে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments