Image description

গাজীপুরের কালীগঞ্জে তুচ্ছ কলার ছড়ি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক হোটেল ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার সাবেক এমপি জিতু মিয়ার মার্কেটে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একই পরিবারের তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।

নিহত লিটন চন্দ্র ঘোষ (৫০) পৌরসভার চান্দাইয়া গ্রামের মৃত নির্মল চন্দ্র ঘোষের ছেলে। তিনি ওই মার্কেটে একটি হোটেলের ব্যবসা করতেন।

আটককৃতরা হলেন- পৌরসভার বালীগাঁও গ্রামের মৃত তারা মিয়ার ছেলে স্বপন মিয়া (৫০), তার স্ত্রী মাজেদা (৪৮) ও ছেলে মাসুম (৩০)। তারা ওই মার্কেটের পিছনের অংশে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন।

থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বপন মিয়ার লাগানো একটি কলাগাছ থেকে শুক্রবার রাতে এক ছড়ি কলা চুরি হয়। শনিবার সকালে স্বপনের স্ত্রী মাজেদা দাবি করেন যে, চুরি হওয়া কলার ছড়িটি হোটেলের কর্মচারীদের থাকার ঘরে পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মাজেদা হোটেল কর্মচারীদের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হন। একপর্যায়ে মাজেদা তার স্বামী ও ছেলেকে ডেকে এনে কর্মচারীদের বেধড়ক মারধর শুরু করেন। হোটেল মালিক লিটন চন্দ্র ঘোষ তার কর্মচারীদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকেও লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং মারধর করে।

গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় লিটনকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ধাওয়া করে অভিযুক্ত স্বপন, তার স্ত্রী মাজেদা ও ছেলে মাসুমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ইমরান খান জানান, দুপুরে লিটন চন্দ্র ঘোষকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার কপালে গভীর কাটা দাগ এবং নাকে রক্ত জমাট বাধা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, কলার ছড়ি চুরির তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর