Image description

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় মাশরুম চাষ করে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন শান্তিরাণী ত্রিপুরা (৪৩)। পাহাড়ের প্রতিকূল পরিবেশে কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে তিনি এখন এলাকার নারীদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

উপজেলার ৪নং নোয়াপতং ইউনিয়নের অন্তাহা পাড়া এলাকার বাসিন্দা শান্তিরাণী ত্রিপুরা। স্বামী শক্তিমনি ত্রিপুরা একজন সাধারণ কৃষক। দুই সন্তান নিয়ে এক সময় অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে চলত তাদের সংসার। স্বামীর একক আয়ে সচ্ছলতা না ফেরায় শান্তিরাণী নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন থেকেই শুরু হয় মাশরুম চাষ। বর্তমানে তাঁর গড়া ‘আড়ং এগ্রো’ খামারে সাদা ও ছাই রঙের মাশরুমের ব্যাপক ফলন হচ্ছে।

শান্তিরাণী জানান, একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে গত বছর ৫শ বীজ (স্পন) দিয়ে ছোট পরিসরে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর কাছে কয়েক হাজার মাশরুমের স্পন রয়েছে। প্রতি কেজি মাশরুম বাজারে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নিয়মিত উৎপাদন ও বাজারজাত করতে পারলে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

তবে অর্থাভাব এবং বীজের সংকটের কারণে এখনো বড় পরিসরে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে পারছেন না। শান্তিরাণী বলেন, “মাশরুম চাষে ২০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। সরকারি বা বেসরকারি আর্থিক সহযোগিতা পেলে আমি বাণিজ্যিক আকারে বড় খামার করতে পারতাম। এখন আমার খামারে কয়েকজন স্থানীয় নারী শ্রমিকও কাজ করছেন, যা তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।”

শান্তিরাণীর স্বামী শক্তিমনি ত্রিপুরা বলেন, “আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় শুরুতে অনেক কষ্ট হয়েছে। এখন আমার স্ত্রীকে দেখে এলাকার অন্য নারীরাও মাশরুম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে বাইরে থেকে বীজ সংগ্রহ করা বেশ ব্যয়বহুল। স্থানীয়ভাবে বীজের সরবরাহ থাকলে আমাদের জন্য আরও সুবিধা হতো।”

এ বিষয়ে রোয়াংছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উবাচিং মারমা বলেন, “সবজি হিসেবে মাশরুম বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শান্তিরাণী ত্রিপুরার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি সমাজে অনুকরণীয় ভূমিকা রাখছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”

শান্তিরাণী ত্রিপুরার এই মাশরুম খামার শুধু তাঁর পরিবারের ভাগ্যই বদলায়নি, বরং পাহাড়ের জুম চাষের পাশাপাশি মাশরুম চাষের এক নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর