Image description

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আলোচিত দানিয়ূল ইসলাম (৫০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনি ভাড়া করে স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অভিযোগে নিহতের স্ত্রীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নিহত দানিয়ূল ইসলামের স্ত্রী ও বীরগঞ্জ উপজেলার আরাজি চৌপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোছা. সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি (৪১), তার পরকীয়া প্রেমিক দিনাজপুর শহরের উত্তর বালুবাড়ি এলাকার মো. শাহ আলম কল্লোল (৫৬) এবং ভাড়াটে খুনি বাগেরহাট জেলার সদরের মো. আবু বক্কর ওরফে বাদশা (২৬)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, দুই সন্তানের জননী সুলতানা রাজিয়া পপির সঙ্গে কাপড় ব্যবসায়ী শাহ আলম কল্লোলের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। তারা ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রাত্রিযাপন করতেন। একপর্যায়ে স্বামী দানিয়ূল ইসলামকে সরিয়ে দিতে তারা ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেন।

তদন্তে জানা যায়, গত ৩ ডিসেম্বর আরাজি চৌপুকুরিয়া গ্রামে জিন্দাপীর মেলা চলাকালে লোকসমাগমের সুযোগ নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পপি তার বাড়ির প্রবেশের পথ ও ভেতরকার ভিডিও তৈরি করে কল্লোলের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। পরে খুনি আবু বক্কর ও তার সহযোগীরা সংগৃহীত চাবি দিয়ে ঘরে ঢুকে দানিয়ূল ইসলামকে গলা কেটে হত্যা করে।

প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গত ১৬ জানুয়ারি খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে র‍্যাব-৬-এর সহযোগিতায় প্রথমে আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে দিনাজপুর ও বীরগঞ্জ থেকে পপি ও কল্লোলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আবু বক্করের ভাড়া বাসা থেকে একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি মো. সাইফুল ইসলাম, বীরগঞ্জ থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. জাহাঙ্গীর বাদশা রনি উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মানবকণ্ঠ/ডিআর