Image description

শীত মৌসুম এলেই অতিথি পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে আছরাঙ্গা দিঘি। বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির আগমনে দিঘিপাড় এখন প্রাণচঞ্চল ও মনোরম।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর শীতের শুরুতে উত্তর এশিয়া ও সাইবেরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অতিথি পাখিরা হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এখানে আসে। দিঘির স্বচ্ছ পানি, পর্যাপ্ত খাবার এবং তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ অতিথি পাখিদের আকর্ষণ করে।

ভোরের আলো ফুটতেই দিঘির পানিতে ভেসে বেড়াতে দেখা যায় পাতিহাঁস, জলময়ূর, সরালি হাঁসসহ নানা জাতের অতিথি পাখি। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে।

স্থানীয় পাখি প্রেমী শামীমা আখতার বলেন,“শীত এলেই আমরা দিঘিতে নানা রঙের পাখি দেখতে পাই। পরিবার নিয়ে সকালে এসে পাখি দেখা এখন আমাদের একধরনের বিনোদন।”

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, কিছু অসচেতন মানুষের কারণে অতিথি পাখির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। মাঝে মাঝে শিকারিদের উৎপাত ও শব্দদূষণের কারণে পাখিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আছরাঙ্গা দিঘি সংরক্ষণ ও অতিথি পাখি রক্ষার বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা প্রাণী সম্পদ  কর্মকর্তা ডা.পলাশ চন্দ্র  বলেন,“আমরা আছরাঙ্গা দিঘিকে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছি। শীতকালীন অতিথি পাখিদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ সেবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম চলমান আছে। 

প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সভাপতি, পরিবেশ কর্মী এম রাসেল আহমেদ বলেন, "দিঘি এলাকায় শিকার, অবৈধ মাছধরা ও দূষণ রোধে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। আমরা স্থানীয়দেরও উৎসাহিত করছি, যেন তারা পাখিদের প্রতি সংবেদনশীল থাকে এবং প্রকৃতিকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই আছরাঙ্গা দিঘি যেন শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, বরং একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে অতিথি পাখির জন্য। শীতকালীন পর্যবেক্ষণ চালানো হবে, এবং যে কেউ দিঘির পরিবেশ নষ্ট করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পরিবেশ সচেতনরা মনে করেন, অতিথি পাখি ও তাদের আবাসস্থল রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো এবং জনসচেতনতা সৃষ্টিই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। শীতের এই মৌসুমে আছরাঙ্গা দিঘি যেন শুধু একটি জলাশয় নয়, বরং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের এক জীবন্ত প্রদর্শনী হয়ে উঠছে।