কেশবপুরে মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার: ঘের মালিককে জরিমানা
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মাছের খাদ্য হিসেবে ক্ষতিকর পোল্ট্রি মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করার দায়ে এক ঘের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ৯নং গৌরীঘোনা ইউনিয়নের সন্ন্যাসগাছা গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেকসোনা খাতুন। অভিযানে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সন্ন্যাসগাছা গ্রামের ঘের মালিক মতিয়ার রহমান দীর্ঘদিন ধরে তার মৎস্য ঘেরে মাছের খাদ্য হিসেবে পোল্ট্রি মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করে আসছিলেন। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন সেখানে ঝটিকা অভিযান চালায়। অভিযানকালে ঘের প্রাঙ্গণে বিপুল পরিমাণ পোল্ট্রি বিষ্ঠার মজুত পাওয়া যায় এবং ঘেরের ম্যানেজার দেবাশীষ রায়কে হাতেনাতে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে মৎস্য ও পশু খাদ্য আইন-২০১০ অনুযায়ী ঘের মালিক মতিয়ার রহমানকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, "মাছের খাদ্য হিসেবে পোল্ট্রি বিষ্ঠা ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং জনস্বার্থ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। ভবিষ্যতে কেউ আইন অমান্য করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস জানান, পোল্ট্রি বিষ্ঠা ব্যবহার করলে মাছের ঘেরের পানিতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা মাছের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে জটিল রোগ সৃষ্টি করতে পারে। নিরাপদ ও মানসম্মত মাছ উৎপাদনের স্বার্থে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে মৎস্য বিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments