Image description

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের হাসুড়া গ্রামে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি বা টপসয়েল চুরির মহোৎসব। এলাকার অতি উর্বর তিন ফসলি জমির বুক চিরে এবং মানুষের বসতবাড়ির আশপাশের ভিটামাটি পর্যন্ত কেটে সাবাড় করছে একটি প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী চক্র। ভেকু মেশিন (এক্সেভেটর) বসিয়ে দিন-রাত মাটি কেটে ১০ চাকার বিশালাকার ড্রাম ট্রাকে করে পাঠানো হচ্ছে নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুরের বিভিন্ন ইটভাটায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সায়েম ও জিয়া নামের দুই প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে এই চক্রটি সক্রিয়। তারা সাধারণ ও সহজ-সরল কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে এবং মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দিয়ে ফসলি জমি ও বসতবাড়ির উঁচুমাল বা ভিটামাটি কাটতে বাধ্য করছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, তিন ফসলি জমির টপসয়েল কেটে নিলে মাটির জৈব গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়, যা পুনরুদ্ধার হতে অন্তত ১০-১৫ বছর সময় লাগে। এর ফলে ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসুড়া গ্রামের ফসলি মাঠ ও ভিটামাটি থেকে গভীর করে মাটি খনন করা হচ্ছে। এসব মাটি বহনের জন্য ব্যবহৃত ভারী ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সরু কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক জায়গায় রাস্তা দেবে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপ করে বলেন, "যেখানে তিনবার ফসল হতো, সেই জমি এখন গর্তে পরিণত হচ্ছে। এমনকি বাড়ির আশপাশের ভিটামাটিও বাদ যাচ্ছে না। মাটি ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। ধুলোবালি আর বিকট শব্দে বাড়িতে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।"

এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুর্শিদা খাতুন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, "তিন ফসলি জমি ও ভিটামাটি কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। খবর পাওয়া মাত্রই আমরা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেব। গ্রামীণ রাস্তা ও কৃষি নষ্ট করে কাউকে পকেট ভারী করতে দেওয়া হবে না। শীঘ্রই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।"

দ্রুত এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন হাসুড়া গ্রামের সাধারণ কৃষিজীবী মানুষ।